প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা চারদিনের রেকর্ড বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা, পাহাড়ধস এবং জলাবদ্ধতায় শিশুসহ ৩০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গম্ভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে, সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়ে আটকে থাকা পর্যটক উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হচ্ছে, একদিনেই সাত শিশুর অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এ অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তির জন্য আজ্ঞা করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
এনসিপি জানায়, টানা ভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম মহানগরীর অধিকাংশ এলাকা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে ডুবে গেছে। এ কারণে জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙ্গামাটির সড়কে প্রায় ৪৫০ জন পর্যটক আটকা পড়েছে, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এনসিপি অবিলম্বে বর্তমান বিএনপি সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছে যে, পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, আবহাওয়াবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের প্রথম ২০ দিন বৃষ্টিহীন থাকার পর সাগরে লঘুচাপের কারণে এই ধরনের তীব্র ও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের একটি সুস্পষ্ট সংকেত।
এবং তবুও, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের মতো মানবিক বিপর্যয় রোধে যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি ও টেকসই পরিকল্পনার অভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি জানায়, চট্টগ্রামকে রক্ষা করতে হলে শুধু সাময়িক ত্রাণ বিতরণ করলেই হবে না। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নিতে হবে। সেইসঙ্গে, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোকে স্থায়ী পুনর্বাসনের আওতায় এনে পাহাড়ধসের মতো মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে নাগরিকদের জীবন রক্ষা করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
জনস্বার্থে এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে সরকারকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানাচ্ছে দলটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন