প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. আবদুস সালাম সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহত ও আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে ঐক্যবদ্ধ থাকেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে কোনোভাবেই বেঈমানি করা যাবে না।’
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী পার্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আবদুস সালাম এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসির প্রশাসক হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে যাত্রাবাড়ীতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি ছিল সব রাজনৈতিক দলের। ইতোমধ্যে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শুরু হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান। স্বৈরাচাররা আমাদের ওপর কীভাবে গুলি চালিয়েছে, তা আমরা সহজে ভুলে যাইনি।’ আবদুস সালাম জানান, অভ্যুত্থানের ছয় মাসও পার হয়নি। এর মধ্যেই সংসদের বিরোধী দল আন্দোলনের নামে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে উৎখাত করে গণতন্ত্রের পথে হাঁটার সূচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই যাত্রা ও অর্জন ধরে রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
যাত্রাবাড়ীতে জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে আবদুস সালাম বলেন, ‘এখানে আমাদের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরেছে। আমরা সেই রক্তের ত্যাগকে বৃথা যেতে দিতে পারি না।’
তিনি বলেন, দেশে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করা যাবে না। আবদুস সালাম প্রশ্ন করেন, ‘যারা সরকারের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা না করে লংমার্চ ও রোডমার্চের নামে উসকানি দিচ্ছেন, তারা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনতে চান?’
বিএনপি কখনো জনগণের সঙ্গে বেঈমানি করেনি দাবি করে তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং সংকটময় সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছিলেন। পরে বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।’
আবদুস সালাম আরও বলেন, ‘১৭ বছর আমরা গণতন্ত্রহীন ছিলাম। আজ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কারো অনুকম্পায় তিনি এ পদে আসেননি।’
তিনি মন্তব্য করেন, সরকারকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা বিএনপি রাজপথে মোকাবেলা করবে। এ জন্য দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন—ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, ওলামা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল ও কৃষক দলের নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘দেশ রক্ষার দায়িত্ব একা কারো নয়, এই দায়িত্ব আমাদের সবার। বিএনপি অন্যায় ও অবৈধ পথে বিশ্বাস করে না। অতীতে বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা হলেও তা কখনো সফল হয়নি।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র নবীউল্লা নবীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন