প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরবরাহ কমের অজুহাতে, সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে আদার দাম বেড়ে গেছে কেজিতে ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আদার মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। তারা জানিয়েছে, দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার তদারকির প্রয়োজন। বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে, এবং সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম কমে আসবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে হিলি বাজারের কোন দোকানে দেশীয় আদা পাওয়া যায়নি। সব দোকানে আমদানিকৃত চায়না জাতের আদা দেখা গেছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি আদার দাম ছিল ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
আদা কিনতে আসা উসমান আলী বলেন, "যেভাবে রাত পোহালেই বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে, তাতে করে আমাদের মতো গরিব মানুষ কিভাবে চলবে। যে আদা কয়েকদিন আগেও ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি ছিল, সেটি এখন ১৬০ টাকায় উঠে গেছে। আমাদের তো আয়-রোজগার সীমিত। এভাবে দাম বাড়লে আমাদের সংসার চালানো দুষ্কর হয়ে পড়ছে।"
বাজারে আদা কিনতে আসা কেয়া রাণী বলেন, "সপ্তাহের ব্যবধানে আদার দাম কেজিতে ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। বাড়তি দামের কারণে আমাদের মত মানুষদের বাধ্য হয়ে ক্রয়ের পরিমাণ কমাতে হচ্ছে। যতটুকু চাহিদা, তার চেয়ে পরিমাণে কম কিনতে হচ্ছে। এভাবে যদি দাম বাড়তেই থাকে, তাহলে তো আদা ছাড়াই রান্নার অভ্যাস করতে হবে। হঠাৎ করে এমন কি হলো যে আদার দামে আগুন লেগে গেলো। সরকারের উচিত বিষয়টি তদারকি করা, কেন দাম বাড়ছে সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া।"
হিলি বাজারের আদা বিক্রেতা শাকিল আহমেদ বলেন, "মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় বাজারে কোন দেশীয় আদার সরবরাহ নেই। বেশ কিছুদিন ধরে আমদানিকৃত চায়না জাতের আদা দিয়ে চাহিদা মিটছিল। এর পাশাপাশি ভারত থেকেও আদা আমদানি হচ্ছিল, যা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হচ্ছিল। কিন্তু ভারতীয় আদার চেয়ে চায়না আদার মান ভালো হওয়ায় আমাদের এই এলাকায় চায়না জাতের আদার চাহিদা বেশি। কিছুদিন আগেও ভারতীয় আদা বেশি পরিমাণে আমদানি হওয়ায় দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। বর্তমানে ভারত থেকে আদা আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় বাজারে চায়না জাতের আদার সরবরাহ বেশি রয়েছে। সেই সাথে চায়নাতে আদার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। চায়নাতে আদার দাম কমে এলে দেশের বাজারেও দাম কমে আসবে বলেও জানিয়েছেন তারা।"
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, "কেউ যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কোন পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সে জন্য আমরা নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছি। তারা কি দামে পণ্য কিনছেন বা কি দামে পণ্য বিক্রি করছেন, সেই ম্যামো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। কারো বিরুদ্ধে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ পেলে জরিমানা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন