০৯:৫৪ পি.এম
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন দাবি করেছেন যে, বাজেট প্রণয়নে সংসদের ভূমিকা একদম রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত হয়েছে। বুধবার, সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাজ্যে অর্থবিল স্থায়ী কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সংসদে আনা হয়। অনেক দেশে বাজেট সাধারণ আলোচনার পরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে পর্যালোচনা শেষে এটি সংসদে আসে। অথচ বাংলাদেশে বাজেট প্রণয়ন করেন আমলারা। এমপিদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ থাকে কেবল কয়েক মিনিটের গলাবাজির মধ্যে।
চলমান অধিবেশনে, ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে ব্যারিস্টার মোমেন বলেন, সত্যিকার অর্থে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এই সংস্কৃতির পরিবর্তন অপরিহার্য। বাজেট প্রণয়নে সংসদ সদস্যদের সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটকে সরকারদলীয় এমপিরা ‘যুগান্তকারী’ আখ্যা দিলেও নাজিবুর রহমানের মতে, তা সঠিক নয়। তিনি বলেন, গত এক দশকের বাজেটগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কিছু সংখ্যা ও ভাষাগত পরিবর্তন ব্যতীত কাঠামোগতভাবে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও বাজেটটি গতানুগতিক, শুভঙ্করের ফাঁকি, গণবিরোধী এবং আগামী বছরের লুটপাটের পরিকল্পনার বাজেট। মূল্যস্ফীতি হিসাব করলে, একে কোনোভাবেই সবচেয়ে বড় বাজেট বলা যাবে না। বরং এটি সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট এবং সবচেয়ে বেশি ঋণনির্ভর বাজেট।
আরও পড়ুন: স্থানীয় নির্বাচনে মুনাফেকি করলে ক্ষমা নেই: আইনমন্ত্রী
সরকারের দেওয়া বিভিন্ন কার্ডের প্রতি বিদ্রুপ করে ব্যারিস্টার মোমেন বলেন, ১৮ কোটি মানুষের দেশে প্রত্যক্ষ কর দেন মাত্র ২৪ লাখ লোক। এখানে অনেক চালাকি করা হয়েছে। মধ্যবিত্তদের উপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হয়েছে এবং ভ্যাটের আওতা বাড়ানো হয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডারসহ ২০টি পণ্যের উপর ভ্যাট বেড়েছে। একজন ভিক্ষুককে চাল, ডাল, নুন ও তেল কিনতে যে পরিমাণ ভ্যাট দিতে হয়, একজন কোটিপতিও একই পরিমাণ দেন। তাহলে এটি কীভাবে গরিববান্ধব বাজেট হলো? অনেক কার্ডই দিচ্ছে সরকার, একটা ‘ভ্যাট মওকুফ কার্ড’ যদি গরিব মানুষের জন্য দিতেন, তাহলে ভালো হতো।
জামায়াতের এই এমপি আরও বলেন, সুদের অভিশাপ থেকে জাতিকে বাঁচানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যদি আমরা অভাবগ্রস্ত হই, তাহলে পর্যায়ক্রমে সুদ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এই পদক্ষেপ নিলে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ। এ ক্ষেত্রে জাকাত দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দেশে পরিকল্পিতভাবে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা জাকাত আদায় সম্ভব।
ব্যারিস্টার মোমেন আরও বলেন, এই সংসদে মসজিদে রাজনীতি বন্ধ ও জামায়াত নিষিদ্ধ করার দাবিও করা হয়েছে। এই ধরনের ফ্যাসিবাদী দাবি আগেও একটি দলের নেতাকর্মীদের করতে দেখা গেছে। আজ দেশের জনগণ তাদেরকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজশাহীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিনুর ৬ দফা দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন