প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
“দেশের জন্য কিছু করবো বলে সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে জমিটা কিনেছিলাম। আজ সেই জমির ওপর গড়া স্বপ্নটাই ভেঙে যাচ্ছে চোখের সামনে।” কাঁপা গলায় কথাগুলো বলছিলেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ড. মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন।
ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়ার সন্তান ফরহাদ হোসেন। দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় সৎ ও কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। সেই টাকায় ২০১৯ সালে লাউদিয়া মৌজায় একখণ্ড জমিসহ একটি প্রতিষ্ঠিত মার্কেট কেনেন। নাম দেন ‘আল-আজিম মার্কেট’। তার স্বপ্ন ছিল এই মার্কেটটিকে আধুনিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র বানিয়ে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন।
কিন্তু, সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কবলে পড়েছে তার সাধের মার্কেটটি। অধিগ্রহণ নোটিশ পাওয়ার পর মার্কেটের ১১টি সচল দোকান একে একে বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে চিকিৎসকের চেম্বার ছিল, গাড়ি মেরামতের গ্যারেজ ছিল এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংসার চালানোর একমাত্র অবলম্বন ছিল। অনিশ্চয়তার মুখে দোকানিরা সবাই চলে গেছেন। বর্তমানে প্রতিটি দোকানের শাটারে তালা ঝুলছে।
ড. ফরহাদ হোসেনের দাবি, “মার্কেটটি সম্প্রসারণের নকশা তৈরি ছিল। অনুমোদনের জন্য আবেদন করবো, ঠিক তখনই অধিগ্রহণের চিঠি এলো। আমার চালু ব্যবসা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সব শেষ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, এই ক্ষতির কোনো ন্যায্য মূল্যায়ন হচ্ছে না।”
তিনি আরো জানান, প্রবাস জীবনের প্রতিটি ডলার তিনি জমিয়েছিলেন দেশে কিছু করার আশায়। “আমরা প্রবাসীরা দেশের স্বার্থে ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি। কিন্তু সেই ত্যাগের বিনিময়ে অবিচার পেলে, তাহলে নতুন করে কেউ দেশে বিনিয়োগের সাহস পাবে না। আমার মতো হাজারো ফরহাদের স্বপ্ন মরে যাবে।”
এই মার্কেটটি শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা ছিল না, বরং এতে ভাড়াটিয়ার ১১টি পরিবারের রুটি-রুজির জায়গা ছিল। দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই পরিবারগুলোও এখন পথে বসার উপক্রম।
ড. ফরহাদ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন না। তার একটাই চাওয়া হলো আইনের আলোকে ন্যায়বিচার। তিনি বলেন, “উন্নয়ন হোক, কিন্তু সেই উন্নয়ন যেন কোনো প্রবাসীকে কষ্ট দিয়ে না হয়। রাষ্ট্রের কাছে আমার আকুতি, প্রবাসীদের যেন নিজ দেশে পরবাসী মনে না হয়।”
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আহম্মেদ সায়াদাত প্রবাসির আবেদন পেয়ে জানিয়েছিলেন, ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী তিনি ক্ষতিপূরণ পাবেন। এতে আইনের কোন ব্যাত্যয় ঘটেনি। তাছাড়া গণপুর্তসহ ৬টি বিভাগের সরজমিন দেওয়া রিপোর্ট মোতাবেক প্রবাসী ফরহাদের জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন