ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

২৯ লাখ টাকার হিসাব না মেলার পরও আব্দুল কাদিরের পুনর্বহাল, তদন্তের দাবি


২৯ লাখ টাকার হিসাব না মেলার পরও আব্দুল কাদিরের পুনর্বহাল, তদন্তের দাবি

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লিয়াকতগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদিরকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পুনর্বহালটি শুধুমাত্র টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে করা হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রতিষ্ঠানের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থসংঘাতের অভিযোগও উঠেছে। এই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেগম হাছিনা মমতাজ।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালে আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এরপর দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রশাসন ও তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির উদ্যোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুশান্ত সিংহ এবং সদস্য ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমান ও উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন এস এম এমদাদুল হক।

আবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, দুই দফা তদন্তে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব পাওয়া যায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আব্দুল কাদিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং স্থায়ী বরখাস্তের জন্য শিক্ষা বোর্ডে সুপারিশ করা হয়। তবে চলতি বছরের ৫ জুলাই বর্তমান সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির তদন্ত শেষে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার হিসাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রতিবেদনটি শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর পরিবর্তে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এডহক কমিটির সভা আহ্বান করা হয়। ওই সভায় আব্দুল কাদিরকে শুধুমাত্র টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে, কারণ তিনি আগের তদন্ত কমিটিরও সদস্য ছিলেন।

আরও পড়ুন: আদালতের নির্দেশের পরও সিলেটের বিরোধপূর্ণ বাড়িতে দখল অব্যাহত

একই আর্থিক অনিয়মের তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পর, পরবর্তীতে সভাপতি হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির পুনর্বহালের সিদ্ধান্তে সভাপতিত্ব করায় তাঁর নিরপেক্ষতা ও সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। আবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, তদন্তে আর্থিক অনিয়মের বিষয় উঠে আসার পরও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে শুধুমাত্র অর্থ ফেরতের শর্তে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের আইনগত ও বিধিগত ভিত্তি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেগম হাছিনা মমতাজ অভিযোগ করেছেন যে, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি ৩০ সেপ্টেম্বরের এডহক কমিটির সভায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আবেদনকারী জেলা প্রশাসকের কাছে আব্দুল কাদিরের পুনর্বহালের রেজুলেশন বাতিল, আর্থিক অনিয়মের তদন্ত, পূর্বের ও বর্তমান তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার বা স্বার্থসংঘাতের অভিযোগ তদন্তের দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল কাদির ও মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার ফোন দিলে তারা রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, ১০ যাত্রী আহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভূমি অধিগ্রহণের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১০ এম


ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভূমি অধিগ্রহণের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকদের জমির ন্যায্যমূল্য এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবিতে হবিগঞ্জের মাধবপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিক, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মাসুম বিল্লাহ, হাজী শফিকুল ইসলাম, শাওন মিয়া, হুমায়ুন আহমেদসহ আরও অনেকে।

বক্তারা উল্লেখ করেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত হলে দেশের যোগাযোগব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তবে উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার থেকে যেন বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

তারা অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমি অধিগ্রহণের কারণে অনেক পরিবার বসতভিটা, কৃষিজমি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। অথচ জমির প্রকৃত বাজারমূল্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ বিদ্যমান। এ অবস্থায় অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ এবং দ্রুত ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি জানান তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকরা জানান, তারা বৃহৎ এই উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন না। বরং তারা উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার দাবি জানাচ্ছেন। জমির যথাযথ মূল্য এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হলে অনেক পরিবার আর্থিক এবং সামাজিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। মানববন্ধন থেকে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা, প্রকৃত বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারের এই বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকদের স্বার্থও সমান গুরুত্ব পাবে এবং কেউ যেন তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৌলভীবাজারে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১০ এম


মৌলভীবাজারে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

ন্যায্য মূল্যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়ার নিশ্চয়তা বিধানে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বিভিন্ন এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানের ফলস্বরূপ, বিভিন্ন অনিয়মের কারণে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিনের নেতৃত্বে শমসেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের সহযোগিতায় কমলগঞ্জ উপজেলার লামাবাজার, স্টেশন রোড ও শমসেরনগর বাজারের বিভিন্ন পাইকারি এবং খুচরা এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানের সময় দেখা যায়, মূল্যতালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করা হয়নি, পাকা ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ করা হয়নি এবং সিলিন্ডার অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার মতো বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অভিযানে লামাবাজারের ওম ট্রেডার্সকে ৩ হাজার টাকা, স্টেশন রোডের চৌধুরী ট্রেডার্সকে ২ হাজার টাকা এবং সায়েম হার্ডওয়্যারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে আরোপিত মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

এছাড়া, এলপিজি সিলিন্ডারের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সঠিকভাবে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, পাকা ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ, অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি না করা এবং অবৈধভাবে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, ভোক্তাদের ন্যায্য মূল্যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিমান আগামীকাল ১০টি এয়ারবাস কিনতে চুক্তি সই করবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২৯ এম


বিমান আগামীকাল ১০টি এয়ারবাস কিনতে চুক্তি সই করবে

ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামীকাল বুধবার ফরাসি উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারবাস’-এর সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। এই চুক্তি বিমান বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার পাশাপাশি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে বিমান বহরে ৪টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি এবং ৬টি এ৩২১নিও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ যুক্ত হবে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর উপস্থিত থাকবেন।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের ‘উৎসব হল’-এ অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীও উপস্থিত থাকার আশা করা হচ্ছে।

আগামী এক দশকে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই এয়ারবাসগুলো যুক্ত হলে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ উড়োজাহাজ বহর আরও সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় হবে।

এর আগে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী অক্টোবরের মধ্যেই ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরেই চুক্তি সই হবে।’

মন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০৩৩ সাল থেকে উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ শুরু হবে এবং তা ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে।

আশা করা হচ্ছে, ৪টি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ বিমানের ভবিষ্যৎ দূরপাল্লার ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে, ৬টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ ব্যবহৃত হবে আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে।

এই ক্রয়ের মাধ্যমে বোয়িং ও এয়ারবাস— দুই ধরনের উড়োজাহাজের সংমিশ্রণে বিমানের একটি বহুমুখী বহর তৈরি হবে।

বিমান এর আগে ১৪টি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৮টি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। পরবর্তীতে এই তালিকায় আরও ১১টি বোয়িং যুক্ত করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে ৫টি ৭৮৭-১০ এবং ৬টি ৭৩৭-৮। এতে মোট বোয়িং ক্রয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫টিতে।

প্রস্তাবিত ১০টি এয়ারবাস কেনা সম্পন্ন হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহরে মোট ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হবে; যার মধ্যে ১৯টি ওয়াইড-বডি এবং ১৬টি ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ।

নতুন উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ শুরুর আগের মধ্যবর্তী সময়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা ধরে রাখতে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওয়াজ-ইমরান খান: বন্ধু ছিলেন, আবারও কি মিত্র হতে পারেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২৯ এম


নওয়াজ-ইমরান খান: বন্ধু ছিলেন, আবারও কি মিত্র হতে পারেন?

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বীদের মিত্র হয়ে ওঠার উদাহরণ বিদ্যমান। ২০০৭ সালে নওয়াজ শরীফ এবং বেনজির ভুট্টোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘চার্টার অব ডেমোক্রেসি’ এর মাধ্যমে তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধের সমাপ্তি ঘটে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে কি নওয়াজ শরীফ ও ইমরান খান আবারও কোনো সমঝোতায় আসতে পারেন?

সোহেল ওয়ারাইচের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে জোট গঠনের সম্ভাবনা নেই। তবে পি জে মীরের ধারণা, কোনো না কোনোভাবে তাদের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে এবং তারা এবার একসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন।

নওয়াজ শরীফ ও ইমরান খানের সম্পর্কের ইতিহাস একটি দীর্ঘ ও নাটকীয় অধ্যায়, যেখানে বন্ধুত্ব থেকে রাজনৈতিক জোট, তারপর বিরোধ এবং শেষ পর্যন্ত তীব্র বৈরিতা দেখা গেছে। তাদের সম্পর্কের পরিবর্তন পাকিস্তানের ক্ষমতার রাজনীতি, সামরিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের পরিবর্তনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

১৯৯২ সালে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ের পর ইসলামাবাদে নওয়াজ শরীফের বাসভবনে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাদের সম্পর্কের একটি ভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে। ওই অনুষ্ঠানে এক বিদেশি সাংবাদিক নওয়াজ শরীফকে ইমরান খান সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। তখন নওয়াজ জানান, তিনি আগেই ইমরান খানকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

নওয়াজ শরীফ তখন ৪৩ বছর বয়সী এবং ইমরান খান ৪০ বছর বয়সী ছিলেন। দুজনেই তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠার শীর্ষে ছিলেন। কেউই হয়তো ভাবেননি, ভবিষ্যতে তারা পাকিস্তানের রাজনীতির কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে পরিণত হবেন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ে জড়াবেন।

ক্রিকেট থেকেই পরিচয়

নওয়াজ শরীফ ও ইমরান খান দুজনেই লাহোরের সচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠেন। নওয়াজ ছিলেন ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান, অন্যদিকে ইমরানের বাবা ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। দুজনেরই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ছিল।

ইমরান খান ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের টেস্ট দলে জায়গা পান। নওয়াজ শরীফের ক্রিকেট ক্যারিয়ার সীমিত হলেও তিনি ক্লাব ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত ইত্তেফাক ক্রিকেট ক্লাবে সে সময়ের অনেক নামী ক্রিকেটার খেলতেন।

লাহোর জিমখানা ক্রিকেট ক্লাবেই ইমরান ও নওয়াজের পরিচয় ঘটে। ইমরান তখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছিলেন, আর নওয়াজ তখন রাজনীতিতে প্রবেশের প্রাথমিক পর্যায়ে ছিলেন।

সাবেক ক্রিকেটার ও সাংবাদিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, তাদের সম্পর্ক শুরুতে খুব ঘনিষ্ঠ ছিল না। ইমরানের বাউন্সারে নওয়াজকে প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হতো। পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

রাজনীতিতে নওয়াজ, ক্রিকেটে ইমরান

১৯৮২ সালে ইমরান পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হন। এর আগে ১৯৮১ সালে পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হওয়া নওয়াজ শরীফ ১৯৮৫ সালে প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী হন। দুজনেরই তৎকালীন সামরিক শাসক জেনারেল জিয়া-উল-হকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।

নওয়াজের ক্রিকেটপ্রেম তখনও অটুট ছিল। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি নিয়মিত জিমখানায় ক্রিকেট খেলতেন। এমনকি আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটও খেলেছিলেন।

১৯৮৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে নওয়াজ শরীফের ক্রিকেটপ্রেম নিয়ে একটি মজার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ইমরান খানকে না জানিয়ে নওয়াজকে ওই ম্যাচে পাকিস্তান দলের অধিনায়ক করা হয়। পরে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ভিভ রিচার্ডসের সঙ্গে টস করতে মাঠে নামেন এবং ব্যাটিংয়ের জন্য প্রস্তুত হন।

শেষ পর্যন্ত নওয়াজ শরীফ দুই বলের বেশি টিকতে পারেননি এবং দ্বিতীয় বলেই তিনি বোল্ড হয়ে যান।

ইমরানের সাফল্যে নওয়াজের ভূমিকা

১৯৮৮ সালে নওয়াজ আবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ১৯৯০ সালে প্রথমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। একই সময়ে ইমরান খানের ক্রিকেট ক্যারিয়ারও সাফল্যের শীর্ষে ওঠে।

১৯৯২ বিশ্বকাপের আগে ইমরানের দল থেকে জাভেদ মিয়াঁদাদ বাদ পড়ার ঘটনায় নওয়াজ শরীফের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছেন জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক কামার আহমেদ। তবে মিয়াঁদাদ নিজে এ বিষয়ে নওয়াজের ভূমিকা নিশ্চিত করতে পারেননি।

তবে ইমরান খানের আরেকটি বড় প্রকল্প শওকত খানম হাসপাতাল নির্মাণে নওয়াজ শরীফের সহযোগিতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ১৯৯২ বিশ্বকাপের আগেই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নওয়াজ হাসপাতালের জন্য জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে ইমরানকে সহায়তা করেন। পরে হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে নওয়াজ উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব

১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের পর নওয়াজ শরীফ প্রকাশ্যে জানান যে তিনি ইমরান খানকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ইমরান তখন জানান, তাকে এর আগে দুবার রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখতে পাচ্ছিলেন না।

তবে মাত্র চার বছর পর, ১৯৯৬ সালে ইমরান খান তেহরিক-ই-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

রাজনীতিতে আসার আগে নওয়াজ শরীফ আবারও ইমরানকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ইমরানের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, নওয়াজ তাকে প্রথমে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ এবং পরে জাতীয় পরিষদের ২০টি আসন নিয়ে জোট করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমনকি তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে পি জে মীরের দাবি।

ইমরান অবশ্য সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। নিজের আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন, নওয়াজ শরীফ ও বেনজির ভুট্টোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত মনে করতেন।

সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আবার একসঙ্গে

১৯৯৭ সালের নির্বাচনে ইমরান খান ও তার দল বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে। অন্যদিকে নওয়াজ শরীফ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন।

কিন্তু ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর জেনারেল পারভেজ মুশাররফ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নওয়াজ সরকারের পতন ঘটান। নওয়াজ কারাবন্দি হওয়ার পর সৌদি আরবে নির্বাসিত হন। অন্যদিকে, প্রথমে মুশাররফকে সমর্থন করলেও পরবর্তী সময়ে ইমরানও তার কাছ থেকে দূরে সরে যান।

২০০৭ সালে মুশাররফের আমলে ইমরান কারাবন্দি হন। এরপর লন্ডনে নওয়াজের সঙ্গে ইমরানের সাক্ষাৎ ঘটে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তারা আবারও একজোট হন।

২০০৭ সালের জুনে তারা পারভেজ মুশাররফের শাসনের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দেন এবং অল পার্টিজ ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টে যুক্ত হন।

কিন্তু সেই জোটও বেশিদিন টেকেনি। নির্বাচন বর্জন নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে আবারও তাদের পথ আলাদা হয়ে যায়।

বন্ধুত্ব থেকে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই

২০১১ সালে ইমরান খান নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সামনে আসেন। তখনও তার প্রধান রাজনৈতিক আক্রমণের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান পিপলস পার্টি। নওয়াজ শরীফের সঙ্গে তার সম্পর্ক পুরোপুরি বৈরী হয়ে ওঠেনি।

কিন্তু ২০১৩ সালের নির্বাচন সামনে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। নওয়াজ শরীফ ও ইমরান খান বুঝতে পারেন, পাকিস্তানের রাজনীতিতে তাদের লড়াই মূলত একে অপরকে ঘিরেই। এরপর তাদের রাজনৈতিক ভাষা ও অবস্থান ক্রমেই কঠোর হয়ে ওঠে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে নওয়াজ শরীফ দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যান। একই নির্বাচনে ইমরান খান প্রথমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। যে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে একসময় নওয়াজ তাকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই বাসভবনের বাসিন্দাই হন ইমরান।

কিন্তু ইমরানের প্রধানমন্ত্রিত্বও পূর্ণ মেয়াদ পায়নি। তিনি তার ক্ষমতাচ্যুতির জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাশাপাশি তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াকেও দায়ী করেন। নওয়াজ শরীফও এর আগে একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%