প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি বছরের শেষের দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন।
তবে এই খবর পাওয়ার পরেও পিয়ংইয়ংয়ের কড়া ও কৌশলী অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কিম জং-উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো-জং।
গত মঙ্গলবার, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন আলোচনা চলছে। চলতি বছরের শেষের দিকে কিমের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও তিনি জানান।
কিন্তু পরদিন উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে একটি বিবৃতির মাধ্যমে কিম ইয়ো-জং ট্রাম্পের দাবির একপ্রকার নাকচ করে দেন। তিনি জানান, তথাকথিত এই যোগাযোগের বিষয়ে তিনি ‘বিন্দুমাত্র কিছু জানেন না’।
তিনি মন্তব্য করেন, ‘উত্তর কোরিয়ার প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা এই মুহূর্তেও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জোরেশোরে বৈরী সামরিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।’
কিম ইয়ো-জং, ট্রাম্পের প্রতি তার ব্যক্তিগত অনুভূতির কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র পিয়ংইয়ংয়ের শত্রু হিসেবেই রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কিম ইয়ো-জংয়ের বক্তব্যের মূল কারণ হল যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান সামরিক সহযোগিতা। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে দেখে। যদিও ওয়াশিংটন এবং সিউল বরাবরই দাবি করে আসছে, এসব মহড়া প্রতিরক্ষামূলক।
সেজন্য, ট্রাম্প সম্প্রতি দেশের সঙ্গে সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ কমানোর কথা বলেছেন। তবে পিয়ংইয়ং মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক নীতিতে এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি। এর ফলে, কিম ইয়ো-জং একদিকে ট্রাম্পের প্রতি ভালো স্মৃতি ও ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা বলেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়ার শত্রু হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া, তার বক্তব্যে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে ওঠে। পিয়ংইয়ং ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক নীতির পরিবর্তনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এদিকে, বুধবার (১৯ আগস্ট) সাংবাদিকরা মেরিন ওয়ানের সামনে ট্রাম্পকে কিমের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে আরও প্রশ্ন করেন। তিনি সরাসরি যোগাযোগ করছেন কি না সেটি স্পষ্ট করেননি। তবে, এ বছরের শেষ দিকে কিমের সঙ্গে দেখা করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, দেখা করব’।
ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তিনি কিম জং-উনকে খুব ভালোভাবে চেনেন।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প কিছু সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করেন। গোয়েন্দা সংক্রান্ত এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য সাধারণত প্রকাশ্যে আনা হয় না। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫৭টি অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এর পাশাপাশি, তিনি জানান, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রধারী হতে দেওয়া উচিত নয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন