প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে প্রথম দফার আলোচনা সমাপ্ত হয়েছে। কাতার এবং পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনা সম্পর্কে জানিয়েছে, আলোচনা ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
পূর্ববর্তী সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করার পর, গতকাল রবিবার সুইজারল্যান্ডে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হয়।
সোমবার কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, আলোচনা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি ‘উচ্চ পর্যায়ের কমিটি’ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রূপরেখায় একমত হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সপ্তাহজুড়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলতে থাকবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর উদ্দেশ্যে একটি কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা গঠন করা হয়েছে।
এর আগে, আলোচনার সঙ্গে জড়িত একজন মার্কিন কূটনীতিক জানিয়েছেন, আলোচনায় ইরানের কিছু বিভ্রান্তিকর বার্তা পরিষ্কার করতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কূটনীতিক আরও বলেন, প্রথম দফার আলোচনা চলাকালীন পারমাণবিক চুক্তি বিষয়েও আলোকপাত করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, উভয় দেশের প্রতিনিধিরা প্রথম দফার অগ্রগতিকে ভবিষ্যতের আলোচনার সূচনা বিন্দু হিসেবে বিবেচনা করে কাজ করবেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের প্রাথমিক চুক্তিতে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে লেবাননসহ ‘সব রণাঙ্গনে’ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে কূটনৈতিক টেবিলে এমন ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা দিলেও, মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র এখনও বেশ থমথমে অবস্থায় রয়েছে। গত সপ্তাহের প্রাথমিক চুক্তির পর থেকেই দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে লড়াই আরও তীব্রতর হয়ে উঠেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তি পরবর্তী সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি বিমান হামলাগুলো শান্তি প্রক্রিয়ার স্থায়ীত্ব নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। গত শুক্র ও শনিবার লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর হামলায় ১০৫ জন নিহত এবং ১৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলার জেরে প্রায় চার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং অনন্ত ১২ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি, আনাদোলু এজেন্সি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন