প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন যে, দুঃশাসন থেকে দেশের মুক্তির জন্য তারা রাস্তায় নেমেছেন এবং এ লড়াইয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে চলবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "এ লড়াই কার জন্য, জনগণের জন্য, ১৮ কোটি মানুষের জন্য, সেই লড়াইয়ের আওয়াজ নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি, আপনাদের দাবি আদায় করে ঘরে ফিরবো ইনশাল্লাহ।"
তিনি আরও বলেন, "আপনারা কেন জনগণকে অপমান করতে গেলেন। ৭০ ভাগ লোকের ভোটের রায়কে আপনারা কেন সম্মান করলেন না। কেন, যে ১৪ শ মানুষের জীবন ও রক্তের উপর দিয়ে আপনারা ক্ষমতায় বসলেন, কেন তাদের সাথে আপনারা বেইমানি করলেন। কেন আপনারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেননি।"
শফিকুর রহমান প্রশ্ন তুলেছেন, "আপনারা কথা দিয়েছিলেন কোন জায়গা অনির্বাচিত কাউকে এই দেশ শাসন করতে দেয়া হবে না। জাগায় জাগায় আপনারা প্রশাসক বসিয়েছেন। আপনারা জাতির সাথে ধোঁকাবাজি করেছেন। আপনারা জাতির সাথে কথা দেয়ার একটা কথাও রক্ষা করেন নাই।" তিনি অভিযোগ করেছেন যে, "এই জাতি আপনাদের কাছে এই কার্ড সেই কার্ড এইগুলা চায় না। এই কার্ড গুলোর কথা আপনারা বলেছিলেন জাতিকে দিবেন। জাতি যা চেয়েছিল তা আপনারা জাতিকে দিতে পারেননি, আপনারা ব্যর্থ হয়েছে।"
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১১ টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেকপুর বাইপাসে জামায়াতে ইসলামী টাঙ্গাইল জেলার আমীর আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, "লড়াই হবে, লড়াই হবে, সকল দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই হবে ইনশাল্লাহ। সেই লড়াইয়ে জনতার বিজয় হবে। আমরা বলেছি আমাদের ৬ দফা এখন ৮ দফায় পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রয়োজনে দফা বাড়তে পারে। আবার জনগণের প্রয়োজনে সকল দফা বিলুপ্ত ঘোষণা করে এক দফা ঘোষণা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।"
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক মন্তব্য করেছেন যে, "যদি সরকার জনগনের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়, জনগণের শান্তিপ্রিয় ভাষা যদি বুঝতে হয়, তাহলে যে ভাষায় বললে সরকার বুঝবে ১১ দল সেই ভাষায় কথা বলতে প্রস্তুত রয়েছে।" তিনি যোগ করেছেন, "সোজা আঙ্গুলে যদি ঘি না উঠে তাহলে আঙ্গুল বাঁকাতে আপনারা প্রস্তুত আছেন। আপনারা প্রস্তুত থাকুন।"
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, "আমরা এক স্বৈরাচারকে হটিয়েছি, নতুন আরেক স্বৈরাচার গজিয়ে উঠেছে বাংলাদেশে। গত সাত মাসে প্রতি পদে পদে আপনাদের সাথে প্রতারনা করা হয়েছে। জনগণের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে হ্যা ভোট দিয়েছিলো, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিলো, কথা ছিলো দেশে দুর্নীতি থাকবে না।"
তিনি আরও বলেন, "কথা ছিলো দেশে চাঁদাবাজী-সন্ত্রাসী থাকবে না। কিন্তু সবই রয়ে গেছে।"
পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রমুখ। এছাড়াও, পথসভায় ১১-দলীয় ঐক্যের জোটের টাঙ্গাইল জেলা নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, “গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন” করার ৮ দফা দাবিতে ১১-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে দেশবাসী লংমার্চ পালন করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন