প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে যদি ভোট কারচুপি বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে সরকারকে মাগুরা নির্বাচনের ঘটনাটি থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে ১১-দলীয় জোট। একই সঙ্গে দুর্নীতি বন্ধ করার, প্রশাসনে দলীয়করণ রোধের, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ-পদোন্নতি এবং গুম-খুন ও হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১-দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন কমিটির সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আগামী ২৯ তারিখ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য এবং তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। সেখানে আজকে ১১-দলীয় যে প্রার্থী দেলোয়ার হোসাইনের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, সেটি আমাদের জানা আছে। আগামীকাল সেখানে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আমরা জনসমুদ্র লক্ষ্য করব। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের সংবাদ এসেছে। আবার ১২ ফেব্রুয়ারির ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার পরিকল্পনা হচ্ছে। যদি এ ধরনের কিছু ঘটে, তাহলে মাগুরা থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য সরকারকে আমরা আহ্বান জানাব। আপনারা জানেন, মাগুরার নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়, একটি দৃষ্টান্ত। এখান থেকে সরকার পতন আন্দোলন শুরু হয়েছিল এবং তা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল।’
সরকারের উদ্দেশ্যে ১১-দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক বলেন, ‘যদি সরকার ক্ষমতায় থাকতে না চায়, তাহলে আমরা জোর করে ক্ষমতায় রাখতে পারব না। তাদের প্রতিটি আচরণ মনে হচ্ছে, তারা পালানোর অজুহাত তৈরি করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি আপনারাই তৈরি করেন, জনগণের কিছু বলার নেই। তাই আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে মাগুরার পুনরাবৃত্তি চাই না। এজন্য সাবধান হন এবং সতর্ক থাকুন। যদি এ ধরনের অসৎ পরিকল্পনা থাকে, তাহলে সেগুলো ধুয়ে-মুছে ফেলুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ আজ সজাগ এবং তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে কীভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ঠেকানো যায়। সেই পথেই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামব, ইনশা আল্লাহ।’
সাত দলের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনা ও ১১-দলীয় জোটের ঐক্য সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘গতকালের মিটিংয়ের ব্যাপারে কিছু আলোচনা হয়েছে। বক্তব্য দেওয়া ছাড়াই এটি প্রমাণ করে যে, যারা সেখানে সাত দল বা যে দলেই হোক, জোট হোক, তারা আজ এখানে ১১ দলে আছেন। সুতরাং সেখানে ১১ দলকে নিয়ে বেরিয়ে আসছে, ভেঙে গেছে– নানা অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। তাদের উপস্থিতিই হচ্ছে এর জবাব।’
তিনি বলেন, ‘সুতরাং ১১ দল আছে এবং থাকবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এবং গণভোটের রাস্তা না হওয়া পর্যন্ত যে ঐক্য হয়েছে, সেই ঐক্য অটুট রেখে আমরা এগিয়ে যাব।’
আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে জোটের পক্ষ থেকে হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জমায়েত শুরু হবে। সকাল ৮টায় সমাবেশ শেষে যাত্রা শুরু হবে। ঢাকা থেকে শুরু করে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।
লংমার্চের পথে ছয়টি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে মাদারীপুর-শরীয়তপুরের নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরি চত্বর, খুলনার ফুলতলার স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মণিরামপুর মোড় এবং চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড। কর্মসূচির সমাপনী সভা হবে কুষ্টিয়া জেলা হাইস্কুল মাঠে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এই লংমার্চ হবে শান্তিপূর্ণ, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং জনবান্ধব। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এটি হবে। এর মাধ্যমে আমরা বার্তা দিতে চাই, সরকার যেন দ্রুত জনগণের ভাষা বুঝতে পারে, দেয়ালের লিখন পড়তে পারে এবং শিক্ষা নিতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে যারা আছেন, হেডকোয়ার্টারে এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সবার প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, আমরা সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ করব। ঢাকা থেকে শুরু করে একেবারে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ করব। প্রতিটি জায়গায় জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।’
লংমার্চে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রসঙ্গে সমন্বয়ক বলেন, ‘যদি কারও উসকানি এবং বিশৃঙ্খলা করার সামান্যতম নমুনা থাকে, তাহলে যেন আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যদি আপনারা ব্যবস্থা না নেন, তাহলে আমরা বুঝে নেব সরকার এবং ফ্যাসিবাদী শক্তি আমাদের এই কর্মসূচির মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি না, প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মচারী এ ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কাজে জড়িত হোক। তারা জনগণের হয়ে কাজ করবেন এবং জননিরাপত্তার জন্য কাজ করবেন। শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে তাদের সহায়তা চাই।’
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির নেতারা, জাগপার নেতারা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতারা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১১-দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন