প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের টেনিসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় একটি অস্বাভাবিক ও বিরল ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ব। ক্যানসাস ও টেনিসির আলোচিত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী ক্রিস্টা পাইক (Christa Pike) প্রাণঘাতী বিষাক্ত ইনজেকশনের (Lethal Injection) দুটি ভিন্ন ডোজ প্রয়োগের পর অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি প্রিজনে। ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইককে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষ তার শরীরে বিষাক্ত কেমিক্যালের জোড়া ডোজ প্রয়োগ করে। তবে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের চমকে দিয়ে দুই ডোজ বিষ প্রয়োগের পরেও তার নিঃশ্বাস চালু ছিল এবং হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি দীর্ঘক্ষণ ধরে অস্বাভাবিক নাক ডাকছিলেন।
পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করে এবং তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করে।
আইনি জটিলতা ও সরকারের পদক্ষেপ:
এই ঘটনার পর টেনিসির গভর্নর বিল লি (Bill Lee) পুরো ২০২৬ সালের জন্য অঙ্গরাজ্যটিতে সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি এই ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণ অনুসন্ধানে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রিস্টা পাইকের বিষয়টি এখন এক নজিরবিহীন আইনি জটিলতার সৃষ্টি করেছে। তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, পাইকের রক্তনালী (Veins) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ছোট হওয়ার কারণে ইনজেকশনের তরল সঠিকভাবে তার রক্তে মিশতে পারেনি। মার্কিন সংবিধানের "নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক শাস্তি" (Cruel and Unusual Punishment) সংক্রান্ত অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন কি না, তা নিয়ে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে। আইনজীবীরা তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আবেদন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে এক সহপাঠীকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। টেনিসিতে গত ২০০ বছরের ইতিহাসে তিনিই ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র নারী। সূত্র: সিএনএন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন