প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মজুত প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল সম্পদ উত্তোলনের জন্য ইতালির বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোকে তিনি এই আমন্ত্রণ জানান।
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলার জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননের ওপর গুরুত্বারোপ করে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান স্পিকার।
স্পিকার বলেন, "বাংলাদেশের সঙ্গে ইতালির অকৃত্রিম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ইতালি বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্কের সূচনা হয়।" তিনি উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশের অভিবাসীদের জন্য ইতালি সবসময় উদারতা দেখিয়ে আসছে।"
তিনি আরও জানান, "ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইতালি বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের বৃহৎ গন্তব্য।"
স্পিকার জানান, "সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের বিস্তারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।" তিনি বলেন, "ইতালি বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিরাপদ ও আইনগত মাইগ্রেশনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।" পাশাপাশি, "রোহিঙ্গা সংকটে তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রতি বছর ইতালির সরকার বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা বাংলাদেশকে দিয়ে থাকে।"
প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য প্রসঙ্গে স্পিকার উল্লেখ করেন, "ইতালি বাংলাদেশের সশস্ত্র প্রতিরক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার।" তিনি জানান, "ইতালির বিভিন্ন মেশিনারি যন্ত্রপাতি বাংলাদেশের বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়।" স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, "ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রচলিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সামনে আরও কৌশলগতভাবে বিস্তার লাভ করবে।"
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, "বাংলাদেশ ইতালির পুরোনো বন্ধু।" তিনি উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইতালির সরকার সবসময় দৃঢ় সমর্থন দেয়।" তিনি জানান, "বাংলাদেশ ও ইতালির সংসদের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন ও সংসদীয় প্রতিনিধির সফর বিনিময়ের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির বিস্তারে ইতালির সরকার অত্যন্ত আগ্রহী।" তিনি আরও জানান, "বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও সিরামিকপণ্য প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে ইতালিতে রপ্তানি হয়ে থাকে।"
সাক্ষাতে উভয়েই সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, চলমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, জ্বালানি সংকট নিরসনে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং কূপ খননের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় স্পিকার বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় মজুতকৃত গ্যাস ও তেল সম্পদ উত্তোলনে ইতালির বাণিজ্যিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে ইতালির দূতাবাসের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন