প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তালেবান সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তানের বিশাল খনিজ সম্পদে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে, তারা দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটক আফগান সম্পদ মুক্ত করার দাবি তুলেছে।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি জানিয়েছেন, খনি, অবকাঠামো, কৃষি এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকে আফগানিস্তান স্বাগত জানাবে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "গত ২০ বছরের যুদ্ধের দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের সম্পর্ককে না দেখে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তিতে দেখা উচিত।"
যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা-সমর্থিত আফগান সরকারের ভূতাত্ত্বিক জরিপ অনুযায়ী, আফগানিস্তানে অন্তত ১ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদ বিদ্যমান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে তামা, লৌহ আকরিক, নিওবিয়াম, কোবাল্ট, সোনা এবং লিথিয়াম। তবে, কয়েক দশকের সংঘাতের কারণে এই সম্পদের একটি বড় অংশ এখনও উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।
তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর চীন, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে খনি খাতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি করেছে। এবার কাবুল যুক্তরাষ্ট্রকেও এই খাতে যুক্ত করতে চায়।
তবে, মার্কিন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তালেবানের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিদেশি কূটনীতিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আফগানিস্তানে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে তা তালেবান সরকারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
তালেবান আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে থাকা আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ফেরত আনার পথ তৈরি হবে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ দেশের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে।
এদিকে, তালেবান আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি আবার যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি কাবুলে পরিত্যক্ত মার্কিন দূতাবাস পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র:
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন