বুলবুল আহম্মেদ ( বুলু) নওগাঁ প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৪৮ পি.এম
****সন্ন্যাসতলা নাসরিন সিদ্দিকী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাসরুম ধস: খোলা মাঠেই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম, চরম ঝুঁকির মুখে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
নওগাঁ জেলা বদলগাছী উপজেলার মথুরা পুর ইউনিয়নের সন্ন্যাসতলা নাসরিন সিদ্দিকী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ ভেঙে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। জীবনের ঝুঁকি এড়িয়ে পাঠদান চালু রাখতে বাধ্য হয়েই খোলা আকাশের নিচে ও বিদ্যালয় মাঠে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির পুরানো ভবনের একটি ক্লাসরুমের একাংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ে। পরবর্তীতে বাঁশ ও সাময়িক জোড়াতালি দিয়ে ঘরটি আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। যেকোনো সময় পুরো কাঠামো ধসে পড়ে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জরাজীর্ণ এই অবস্থার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে ঢুকতে ভয় পাচ্ছে। বিদ্যালয়ের অষ্টম নবম দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, জরাজীর্ণ ঘরের মধ্যে বসে ক্লাস করতে তাদের প্রবল ভয় করে। বাইরে মাঠে ক্লাস করতে গিয়ে রোদ-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যা পড়ালেখার পরিবেশ বিনষ্ট করছে। অতি দ্রুত এই ভাঙা শ্রেণীকক্ষ মেরামত অথবা একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী জানান, বারবার চেষ্টা করেও জরাজীর্ণ ওই কক্ষটিকে আর ব্যবহারের উপযোগী করা যাচ্ছে না। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নতুন ভবন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কুলাউড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাসের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে বেশি দামে তেল বিক্রির বিষয়ে কোনো ক্রেতা অভিযোগ করেননি। তবে দোকানে পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধ পাওয়া যায়।
এ অপরাধে দোকানদার তারেক মিয়াকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামালকে কারা অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক হিসেবে একই অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত মোহাম্মদ মোস্তফা কামালকে নতুন আইজি প্রিজনস হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, একই প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অপর কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলামকে কারা অধিদপ্তরের নতুন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক পদে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি সম্প্রতি লেফট্যানেন্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন।
এই দুই কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগের জন্য তাদের চাকরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
গত ১৯ আগস্ট কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেনকে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এজন্য তার চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিয়ে মানুষের জীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। এটি জীবনের ভারসাম্য, প্রশান্তি এবং বংশবৃদ্ধির একটি সুন্দর ও পবিত্র অনুঘটক। বিয়ে শুধুমাত্র দুটি মানুষের সামাজিক বন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আত্মিক ও দাম্পত্য প্রশান্তি অর্জনের একটি অপূর্ব ইসলামি মাধ্যম। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে— একজন ব্যক্তি কি চাইলে সারা জীবন বিয়ে না করে একা কাটিয়ে দিতে পারে? ইসলামি শরিয়তে এই সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন কিভাবে করা হয়েছে এবং একজন ব্যক্তির শারীরিক ও সামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে বিয়ের বিধান কেমন, তা জানা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সারা জীবন বিয়ে না করে চিরকুমার বা চিরকুমারী হয়ে থাকা ইসলামে নিরুৎসাহিত ও অপছন্দনীয় (মাকরুহ) বিষয় হলেও, এটিকে সর্বাবস্থায় সরাসরি ‘হারাম’ বা কবিরা গুনাহ বলা যায় না। শরিয়তের দৃষ্টিতে ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক অবস্থা এবং পাপাচারের আশঙ্কার ওপর নির্ভর করে বিয়ের হুকুম বা বিধান ভিন্ন ভিন্ন রূপ নেয়।
ব্যক্তির অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিয়ের শরঈ হুকুম—
ওয়াজিব (অবশ্যকরণীয়): যদি কোনো ব্যক্তির স্বাভাবিক বা প্রবল যৌন চাহিদা থাকে এবং বিয়ে না করলে জেনা, ব্যভিচার কিংবা কোনো হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট ভয় থাকে, তবে তার জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব। এই অবস্থায় সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিয়ে না করে একা থাকা গুনাহের কারণ হতে পারে।
সুন্নতে মুয়াক্কাদা (সুনির্দিষ্ট সুন্নাত): যে ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাভাবিক যৌন চাহিদা রয়েছে এবং তিনি নিজেকে হারাম কাজ থেকে মুক্ত রাখার সক্ষমতাও রাখেন, তার জন্য বিয়ে করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এটি মহানবী (সা.)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ।
মুবাহ বা জায়েজ: যদি কোনো ব্যক্তির যৌন চাহিদা একেবারেই না থাকে (যেমন— জন্মগত অক্ষমতা, বার্ধক্য কিংবা শারীরিক জটিলতা) এবং বিয়ে না করলেও কোনো প্রকারে গুনাহে জড়ানোর ন্যূনতম ভয় না থাকে, তবে তার জন্য বিয়ে না করে একাকি জীবন কাটানো জায়েজ বা অনুমোদিত।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিয়ের তাগিদ
ইসলামে বৈরাগ্যবাদ বা চিরকুমার জীবনযাপনকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং যথাসময়ে বিয়ের মাধ্যমেই চরিত্র রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন—
وَأَنكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَاءِكُمْ ۚ إِن يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ
‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ এবং তোমাদের সৎকর্মশীল দাস ও দাসীদের বিয়ে দাও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছলতা দান করবেন।’ (সুরা আন-নুর: আয়াত ৩২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) যুবকদের বিয়ের তাগিদ দিয়ে এবং অহেতুক বৈরাগ্য বর্জন করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন—
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ
‘হে যুবকের দল! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কারণ তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার বিয়ের সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে; কেননা রোজা তার কামভাব দমন করবে।’ (বুখারি ৫০৬৬, মুসলিম ১৪০০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, একাকি থাকা বা অহেতুক বিয়ে এড়িয়ে চলা তার আদর্শের অংশ নয়—
النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِي فَمَنْ لَمْ يَعْمَلْ بِسُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي
‘বিয়ে হলো আমার সুন্নত (আদর্শ)। সুতরাং যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করল না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (ইবনে মাজাহ ১৮৪৬)
বিয়ে কেবল শারীরিক চাহিদাপূরণের হাতিয়ার নয়, বরং এটি দ্বীনকে পূর্ণতা দেওয়ার এবং একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের শরিয়তি মাধ্যম। বিশেষ কোনো বাধ্যবাধকতা বা শারীরিক অক্ষমতা না থাকলে বিনা কারণে সারা জীবন চিরকুমার থাকার মানসিকতা ইসলামী জীবনদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই প্রতিটি সামর্থ্যবান ও সক্ষম মানুষের উচিত সুন্নাহর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে রবের ওপর ভরসা রেখে দাম্পত্য জীবনের মাধ্যমে নিজের চরিত্র ও ঈমানকে হেফাজত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ