প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এনেছেন। এবার তার দৃষ্টি আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। তার মতে, এর পেছনে রয়েছে গুগলের আপত্তি।
বুধবার সাউথ ক্যারোলিনার ক্লেমসনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ট্রাম্প বক্তব্য রাখছিলেন। সেখানে তিনি পূর্বে পরিবর্তিত নামগুলোর একটি তালিকা উপস্থাপন করেন। এরপর তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি হ্রদ আছে। একটি উপসাগরও আছে। এবার আমাদের প্রয়োজন একটি নদী এবং একটি মহাসাগর।’
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উপসাগর আছে। একটি সুন্দর হ্রদও আছে। কেউ একজন আমাকে বলল, নদী প্রয়োজন। হ্যাঁ, আমাদের নদী প্রয়োজন। আমাদের মহাসাগর প্রয়োজন।’
নদীর নাম নিয়ে ট্রাম্পের তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, নিউইয়র্কের হাডসন নদী বা মিসিসিপি নদীর নাম পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা তার নেই। মহাসাগর নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার দুটি মহাসাগর পছন্দ। আটলান্টিক এবং প্রশান্ত। এই দুটি ছাড়া অন্য কোনো মহাসাগরে আমি ট্রাম্প বা আমেরিকা নাম বসাব না।’
এরপর তিনি গুগলের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আটলান্টিক নিয়ে সত্যিই ভেবেছিলাম। আমি গুগল ম্যাপসকে ফোন করি। হ্রদের (আমেরিকা) বিষয়ে তারা খুব ভালো সহযোগিতা করেছে। আমি এক মেধাবী ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলি, সুন্দর (পিচাই)। তিনি পুরো গুগল পরিচালনা করেন। তিনি খুবই মেধাবী মানুষ।’
ট্রাম্পের দাবি, তিনি গুগলকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তারা এটি সামলাতে পারবে কি না। তিনি মজা করে বলেন, উপসাগরের নাম পরিবর্তনের ধাক্কা গুগল ম্যাপস এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাই তারা তার প্রস্তাবে রাজি হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, ‘না, না, না, এবার আমি এটা করব না, (পিচাই) বলল। সে বলল, মহাসাগর আলাদা বিষয়, স্যার। এগুলো অনেক দেশ জুড়ে আছে। দয়া করে আমাদের এটা করতে বলবেন না। তাই আমি সম্ভবত থেমে যাব।’
শেষে তিনি সমর্থকদের মতামত জানতে চান। তারপর বলেন, ‘আমার মনে হয় আটলান্টিক মহাসাগর আটলান্টিকই থাক।’
তবে এই কথোপকথন সত্যিই ঘটেছিল কি না, তা পরিষ্কার নয়। পুরো কাহিনী ট্রাম্পের মুখের কথা। গুগল বা সুন্দর পিচাইয়ের কোনো মন্তব্য এই খবরে নেই।
১০ অক্টোবর টেনেসির ক্লার্কসভিলের সমাবেশেও ট্রাম্প একই কথা বলেছিলেন। তখন তিনি আটলান্টিক বা প্রশান্ত, যেকোনো একটি নাম পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। সম্ভাব্য নাম হিসেবে তিনি ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ অথবা ‘আমেরিকাসের মহাসাগর’ বলেন।
সেদিন তিনি বলেন, ‘না, আমাদের করতেই হবে। আমি যাওয়ার আগে আমাদের একটি মহাসাগর থাকা উচিত। আর একটি দারুণ নদীও প্রয়োজন।’ হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার কথাও তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন।
আগের নাম বদল
গত বছর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, মেক্সিকো উপসাগর এখন থেকে ‘গালফ অব আমেরিকা’ নামে পরিচিত হবে। এ বছর আগস্টে তিনি অন্টারিও হ্রদের নাম ‘লেক আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দেন। তখন আমেরিকা ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছিল।
গুগল ম্যাপস ও অ্যাপল ম্যাপস দুটি পরিবর্তনই মেনে নিয়েছে। কিন্তু ম্যাপকোয়েস্ট এবং কানাডার সব ফেডারেল ও প্রাদেশিক মানচিত্র আসল নামই রেখেছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প নিউ মেক্সিকো রাজ্যের নাম ‘নিউ আমেরিকা’ রাখার পরামর্শও দিয়েছেন। তার যুক্তি, নতুন নামে রাজ্যটির ‘মর্যাদা ও মূল্য অনেক বাড়বে’।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন