ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মহাসপ্তমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন বিএমপি কমিশনার


মহাসপ্তমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন বিএমপি কমিশনার

মহাসপ্তমীতে বরিশালের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিএমপি কমিশনার, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ


শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬-এর মহাসপ্তমী উপলক্ষে বরিশাল মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্য ও তদারকি কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) মহাসপ্তমীতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে বিএমপি কমিশনার পূজার সার্বিক পরিবেশ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উৎসব উদ্‌যাপন নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে বিএমপি কমিশনার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্য ও ডিউটি তদারকি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতা, আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত বজায় রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।


পরিদর্শনের সময় বিএমপি কমিশনার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দুর্গাপূজা বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে নগরজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব রয়েছে।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তিনি উৎসবের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

সমন্বিত উদ্যোগে উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব।

দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপগুলোতে পূজারি, দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে। এ সময় সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজামণ্ডপ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। বিএমপি কমিশনার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ও তদারকি কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) মো. আব্দুল হান্নানসহ পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শারদীয় দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীতে বিএমপি কমিশনারের এই পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য ছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে ৯৩ পূজামণ্ডপকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত করেছে এসআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানায় পিস্তল নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১০ এম


মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানায় পিস্তল নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রেললাইনসংলগ্ন একটি মাদক আস্তানায় পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে পিস্তল হাতে যৌথ অভিযান চালানোর ঘটনাটি ব্যাখ্যা করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযানের সময় তার হাতে ছিল পিস্তল সদৃশ একটি আগ্নেয়াস্ত্র। ইশরাক হোসেন নিজেই তার ফেসবুক পেজে এই অভিযানের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। অভিযানের ফলস্বরূপ ৬ জনকে আটক করা হয়।

ইশরাক হোসেন ব্যাখ্যা করে বলেন, ওই এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটায় নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি অস্ত্রটি সঙ্গে রেখেছিলেন। তবে উল্লেখযোগ্য যে, এই অভিযানে তার সঙ্গে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানান, রেললাইনের পাশে ফাঁকা জায়গায় ছোট ছোট অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাদক কেনাবেচা চলছিল। এই আস্তানাটি সম্পর্কে বেশ কিছুদিন ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। মাদকসেবী ও কারবারিদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরই সেখানে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের সময় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘরগুলো ভেঙে দেন। সেখান থেকে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করা হয় এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার করার কথাও জানানো হয়। এ সময় স্থানীয় বস্তিবাসী সেখানে ভিড় জমায় এবং আটক ছয়জনকে মাটিতে বসিয়ে রাখার পাশাপাশি ভিডিওতে দুজনকে মারধর করতেও দেখা যায়।

অভিযানকালে এলাকাবাসীর উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, "এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আমরা সরকার পতন করেছি। আর এই মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই এলাকায় যত বড় মাদক কারবারি হোক না কেন, সে যে দলেরই হোক, আর যদি আমার দলেরও হয়, তবে তার শাস্তি আরও বেশি হবে।"

এর আগে ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি তার আসনটিকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির গণমাধ্যমকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজেই ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন করেন। পরে থানা থেকে পুলিশ ফোর্স গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।

ওসি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো আসলেই হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেনজির-নওয়াজের মতো ইমরান খানকে দেশ ছাড়ায় বাধ্য করার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১০ এম


বেনজির-নওয়াজের মতো ইমরান খানকে দেশ ছাড়ায় বাধ্য করার অভিযোগ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও বেনজির ভুট্টোর মতো দেশত্যাগের সমঝোতায় বাধ্য করার চেষ্টা চলছে, এমন অভিযোগ করেছেন দেশটির জাতীয় পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা মাহমুদ খান আচাকজাই।

শুক্রবার পেশোয়ার হাইকোর্টে (পিএইচসি) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। খবরটি প্রকাশ করেছে দ্য ডন অনলাইন।

আচাকজাই উল্লেখ করেন, অতীতে যেভাবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও বেনজির ভুট্টো সমঝোতার মাধ্যমে স্বেচ্ছানির্বাসনে গিয়েছিলেন, ঠিক তেমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা ইমরান খানের ক্ষেত্রেও চলছে।

তিনি আরও বলেন, "বিশ্বের কোথাও একজন বন্দিকে সাক্ষাতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয় না।" এ সময় তিনি বিতর্কিত সংশোধনী প্রত্যাহার, পার্লামেন্টকে কার্যকর ক্ষমতা প্রদান এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানান।

আচাকজাইয়ের মতে, পার্লামেন্টকে ক্ষমতায়ন করা ছাড়া কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য আইনপ্রণেতাদের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী কোথায় আছেন, তা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ তথ্য জানার অধিকার তাদের রয়েছে এবং এটি সাংবিধানিক অধিকার।

তিনি বলেন, "আমরা খাইবার পাখতুনখোয়ার জনগণের পাশে আছি। এ প্রদেশের খনিজ সম্পদের ওপর প্রথম অধিকার এখানকার মানুষের। রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।" তিনি আরও মন্তব্য করেন, দেশ টিকে থাকলে সবাই নিরাপদ থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে আচাকজাইয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তানের (টিটিএপি) নেতারা। এছাড়া বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি-মেঙ্গল (বিএনপি-এম) প্রধান সরদার আখতার মেঙ্গল এবং সিনেটে বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাসও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আচাকজাই বলেন, তারা সব বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং শিগগিরই একটি সর্বদলীয় সম্মেলন আহ্বান করবেন।

সম্মেলনে সরদার আখতার মেঙ্গল বলেন, যারা নিজেদের সংবিধানের প্রণেতা বলে দাবি করেন, তারাই সংবিধান পদদলিত করছেন। সন্ত্রাসবাদের কারণ দেখিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ায় গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন বাতিল চেয়ে আদালতে বিরোধীরা

খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা ও গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শুক্রবার পেশোয়ার হাইকোর্টে আবেদন করেছে টিটিএপি। এই পদক্ষেপগুলোকে অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন জোটের নেতারা।

আবেদনে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২(১) ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের আওতায় জারি করা জরুরি অবস্থার ঘোষণা অসাংবিধানিক এবং আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত। আবেদনকারীদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংবিধানে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা হয়নি, অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংবিধানপ্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।

আবেদনকারীরা খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক পরিষদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা পার্লামেন্টে স্থানান্তরের উদ্যোগ এবং নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০১ এম


মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৩৪) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জিনু মার্কেটের মিজান স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ীকে প্রথমে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

গুলিবিদ্ধ মিজান বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জয়নারায়ণপুর গ্রামের আহাম্মদ উল্যার নতুন বাড়ির আহাম্মদ উল্যাহর ছেলে। তিনি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে নিজের মুদি দোকানে বেচাকেনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মিজান। এ সময় মুখোশ পরা ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দোকানে ঢোকে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার পেটের বাঁ পাশে, বাঁ হাত ও বাঁ পায়ে উরুতে গুলি লাগে। এতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবু জায়েদ বলেন, মিজান আমাদেরকে ভালো জানে। তিনি জামায়াতের সমর্থক মাত্র। ২০২০ সালেও এই ব্যবসায়ীর ওপর নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছিলেন। তখন তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এবার মুখোর পরে তার দোকানে ঢুকে তাকে গুলি করে। তবে মুখোশ পরে থাকায় তাৎক্ষণিক কাউকে চিহিৃত করা যায়নি। হামলার সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, ছররা গুলিতে ওই ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেরিন ড্রাইভে শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট, নেই ফায়ার স্টেশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১০ এম


মেরিন ড্রাইভে শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট, নেই ফায়ার স্টেশন

দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ৮০ কিলোমিটার এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ। তবে, এই জনাকীর্ণ এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের কোনো স্থায়ী স্টেশন নেই। আগুন লাগার পরিস্থিতিতে উখিয়া ও কক্সবাজারের ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওপর নির্ভর করতে হয়। সড়ক ও দূরত্বের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে, ফলে আগুনে পুড়ে যায় ঘরবাড়ি ও সম্পদ।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইনানীর পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু ও ছয়জন আহত হওয়ার পর মেরিন ড্রাইভ এলাকার হোটেল-রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দাবি, দ্রুত ফায়ার স্টেশন স্থাপনের পাশাপাশি হোটেল-রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী পাথুরে সৈকত, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফ সৈকত। এসব এলাকায় অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও বেড়েছে, কিন্তু জরুরি অগ্নিনির্বাপণ সেবা তেমন বৃদ্ধি পায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগলে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে কোর্টবাজার হয়ে ঘটনাস্থলে যেতে হয়, যা প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরত্ব। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুবিন জানান, টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছিল। এত দেরিতে পৌঁছানোর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো কঠিন হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম আহমেদ জানান, ইনানীর পাটুয়ারটেক একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হলেও এখানে অগ্নিকাণ্ড মোকাবেলার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। আগুন লাগলে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওপর নির্ভর করতে হয় এবং সড়কপথে দূরত্ব বেশি হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে।

তিনি আরও বলেন, এখানে আগেও বিভিন্ন বাড়িঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই অনেক সময় বাড়িঘর পুড়ে যায়। অথচ এখানে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য জায়গা রয়েছে। সরকার উদ্যোগ নিলে স্টেশন স্থাপন করা সম্ভব। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তাও বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই পর্যটন এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানানো হচ্ছে। উখিয়া সদর থেকে কোর্টবাজার হয়ে মেরিন ড্রাইভে আসতে হয় বলে যানজটসহ নানা কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হয়। এতে অগ্নিকাণ্ডে জানমাল ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল আলম জানান, ইনানীতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হলে উখিয়া, ইনানী ও টেকনাফের মধ্যবর্তী পর্যটন এলাকাগুলোতে দ্রুত জরুরি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কমানো যাবে।

লাইসেন্স ছিল না টুপটুপ রিসোর্টের

পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরিন জানিয়েছেন, টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টের ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। এ বিষয়ে আগে সতর্ক করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় বৈধতা নেয়নি বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, মেরিন ড্রাইভ এলাকার অনেক হোটেল-রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ও পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন।

পর্যটক সিরাজুল ইসলাম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। পাশাপাশি হোটেল কর্তৃপক্ষকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। হোটেল চালুর আগে এবং পরিচালনার সময় নিয়মিতভাবে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা জরুরি।

তিনি বলেন, হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে হয়তো এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো। তাই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরই হোটেল পরিচালনা করা উচিত।

পর্যটক মোবারক হোসেন জানান, মেরিন ড্রাইভের হোটেলগুলোর আশপাশে ফায়ার সার্ভিসের কোনো স্টেশন না থাকায় এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ। কোন হোটেলের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে আর কোনটির নেই, সে বিষয়েও পর্যটকদের আগে জানার সুযোগ ছিল না। নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা পেতে দেরি হতে পারে, যা প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ায়।

অভিযান জোরদারের আশ্বাস প্রশাসনের

হোটেল-রিসোর্টের বৈধতা ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ে অভিযান জোরদার করার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে হোটেল ও রিসোর্টে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে এসব অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

ইউএনও বলেন, কিছুদিন আগেও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির কয়েকজন সদস্য ও জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কয়েকটি হোটেল-রিসোর্টে অভিযান চালিয়েছেন। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনগত বৈধতা, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে।

মেরিন ড্রাইভে ফায়ার স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা

মেরিন ড্রাইভ এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাশাপাশি স্থল ও ডুবুরি ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করতে হয়। মেরিন ড্রাইভে ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হলে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সহজ হবে।

তিনি বলেন, সেখানে একটি স্থল ও ডুবুরি ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সক্ষমতাও বাড়বে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

পর্যটননির্ভর মেরিন ড্রাইভ এলাকায় হোটেল-রিসোর্টের সংখ্যা বাড়লেও অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি দূর হয়নি। টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ড সেই দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। এখন দ্রুত ফায়ার স্টেশন স্থাপন, হোটেল-রিসোর্টের অনুমোদন যাচাই এবং নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা তদারকির মাধ্যমে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%