প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এক নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মো. মাসুম ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর মাসুম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই জানিয়েছে, গত ১৪ জুলাই কুড়িগ্রামের সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতে পালানোর চেষ্টা করার সময় মাসুম ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ফুলখা মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা এবং বর্তমানে সাভারের কাতলাপুর এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে উত্তরায় ঢাকা জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম.এন. মোর্শেদ।
তিনি বলেন, গত ২ জুলাই দুপুরে সাভারের বড়দেশী এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ৩৯ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী নারী শারমিন আক্তারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ফরেনসিক টিম বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। পরে নিহতের বাবা মো. শাওকাত হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৮ জুলাই পিবিআই ঢাকা জেলা মামলার তদন্তভার নেয়।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার মাসুম একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানে লাইনম্যান হিসেবে কাজ করতেন। একই সঙ্গে তার বাবার চায়ের দোকানেও কাজ করতেন। ওই দোকানের পেছনের বাসায় থাকতেন ভুক্তভোগী নারী। সেখান থেকেই তাদের পরিচয় এবং পরে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে শারমিন বড়দেশী এলাকায় নতুন বাসায় উঠলে মাসুম সেখানেও নিয়মিত যাতায়াত করতেন।
ঘটনার আগের রাতে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ঘটনার দিন মাসুম ভুক্তভোগী নারীর বাসায় যান। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে শারমিনের ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে শারীরিক সম্পর্কের আলামত, একটি সিগারেটের খোসাসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।
পুলিশ সুপার মোর্শেদ আরও বলেন, ঘটনার পরপরই পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে মূল আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন