প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করলেও, ব্যবধান বাড়াতে ব্যর্থ হয়েছে বার্সেলোনা। পোস্ট, ক্রসবার এবং প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক উনাই সিমনের অসাধারণ দৃঢ়তায় তারা বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছে। শেষ পর্যন্ত, দুই অর্ধে দুটি গোল করে আথলেতিক বিলবাওকে পরাজিত করে হান্সি ফ্লিকের দল লা লিগায় টানা দ্বিতীয় জয় অর্জন করেছে।
কাম্প নউয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত লিগের ম্যাচটি ২-০ গোলে জয়ী হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বার্সেলোনার হয়ে প্রথম গোলটি করেন রাফিনিয়া, পরে ফের্মিন লোপেস ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
ম্যাচে সিমন মোট আটটি সেভ করেন, যিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জিতেছেন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স না থাকলে বার্সেলোনার জয়টি আরও বড় হতে পারত।
বার্সেলোনা ম্যাচে ৭০ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য মোট ২২টি শট নেয়, যার মধ্যে ১০টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, বিলবাওয়ের পাঁচটি শটের মধ্যে একটিও লক্ষ্যে ছিল না।
শুরু থেকেই বল দখলে রেখে আক্রমণ শুরু করে বার্সেলোনা। নবম মিনিটে পেদ্রির কর্নার থেকে এরিক গার্সিয়ার হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। দুই মিনিট পর লামিন ইয়ামালের শট পোস্টের সামান্য বাইরে চলে যায়।
১৯তম মিনিটে প্রথমবার লক্ষ্যে শট নেয় বার্সেলোনা, তবে ইয়ামালের শট দুর্দান্তভাবে এক হাতে ঠেকিয়ে দেন সিমন। চার মিনিট পর স্বাগতিকদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে, কিন্তু রাফিনিয়ার চমৎকার হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
২৯তম মিনিটে পেদ্রি বিলবাওয়ের জালে বল পাঠিয়েছিলেন। অ্যান্থনি গর্ডনের নিচু ক্রস দারুণভাবে জালে জড়ান তিনি, কিন্তু ইয়ামাল অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়।
বার্সেলোনাকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ৩৭তম মিনিটে পেদ্রির রক্ষণভেদী পাস ধরে রাফিনিয়া বক্সে ঢুকে পড়েন এবং এগিয়ে আসা গোলরক্ষক সিমনকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন।
চলতি লিগে এটি রাফিনিয়ার তৃতীয় গোল। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। ওয়ান-অন-ওয়ানে ইয়ামালের কাছ থেকে নেওয়া শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন সিমন। নিজের সুযোগ নষ্ট হওয়ায় ইয়ামালও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, কীভাবে গোলটি হলো না।
প্রথমার্ধে গোলের জন্য বার্সেলোনা নয়টি শট নেয়, যার তিনটি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে, বিলবাওয়ের শট ছিল মাত্র একটি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বিলবাও সুযোগ পায়। ৬০ সেকেন্ডের মাথায় গর্ডনের নেওয়া শট ক্রসবারের কয়েক ইঞ্চি উপরে চলে যায়।
৫৩তম মিনিটে বার্সেলোনা আবার গোলের খুব কাছে পৌঁছায়। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে ইয়ামালের জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পর বক্সের বাইরে থেকে লোপেসের শটও ঠেকিয়ে দেন সিমন।
৬৩তম মিনিটে বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক দুটি পরিবর্তন করেন। রাফিনিয়ার জায়গায় নতুন ক্লাবে অভিষেক হয় রদ্রির এবং মার্ক বের্নালের বদলে মাঠে নামেন দানি ওলমো।
৭৫তম মিনিটে বিলবাও সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পায়। সানসেতের শট বার্সেলোনার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
এরপর ৮২তম মিনিটে বার্সেলোনা ম্যাচের ভাগ্য কার্যত নিশ্চিত করে। দুই মিনিট আগে বদলি হিসেবে নামা কারিম আডেইয়েমি বাঁ দিক থেকে বক্সে বল বাড়ান। সেটি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি বিলবাও ডিফেন্ডার এমরিক লাপোর্ত। বল চলে যায় লোপেসের পায়ে, যিনি ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন।
৮৯তম মিনিটে কাছ থেকে আডেইয়েমির নেওয়া শটও ফিরিয়ে দেন সিমন। যোগ করা সময়ে ইয়ামালের আরেকটি শট ঠেকিয়ে দেন বিলবাওয়ের গোলরক্ষক।
শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষে অবস্থান করছে তারা। সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন