প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখল করেছে। এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। এই শহরটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল মস্কো, যা দীর্ঘদিন ধরে দোনেৎস্ক অঞ্চলে অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে ছিল।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, পুতিন একটি কমান্ড পোস্ট পরিদর্শন করেন এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরিস্থিতির প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। পুতিন কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, "রাশিয়ার তেল শিল্পকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনের হামলা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা বলয় আরও সম্প্রসারণ করতে হয়েছে।"
রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এর আগে বলেছিল, তাদের সেনারা কোস্তিয়ানতিনিভকা শহরের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। শহরটি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ হিসেবে বিবেচিত। এ বিষয়ে পুতিন মন্তব্য করেন, "আমরা সবাই জানি যে এই শহরটি দোনবাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন এবং বৃহৎ শিল্প কেন্দ্র।"
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে কোস্তিয়ানতিনিভকা থেকে ধারণ করা একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে তারা বিধ্বস্ত ভবনের পাশে রুশ সেনাদের জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পাচ্ছে। রুশ বাহিনী দখল করা অঞ্চলটি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত লিমান শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তারা জানিয়েছে, এই শহরটি পরবর্তী সামরিক অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও কৌশলগত কেন্দ্র।
পুতিন জানান, লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের পুরো ভূখণ্ড এখন সম্পূর্ণ মুক্ত রয়েছে। তিনি একটি যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী কমান্ড পোস্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেন, "সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফের পরিকল্পনা অনুযায়ী যৌথ বাহিনীর ইউনিটগুলো তাদের দায়িত্ব পালন করছে। সম্প্রতি লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের সম্পূর্ণ মুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।"
রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় বাহিনীর প্রধান ইয়েভজেনি নিকিফোরভ জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা পুরোপুরি ঠেকানো এখনো সম্ভব হয়নি। এসব হামলায় রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। জবাবে পুতিন বলেন, "শত্রুপক্ষ আমাদের বেসামরিক স্থাপনায় যত বেশি হামলা চালানোর চেষ্টা করবে, প্রতিবেশী ভূখণ্ডে আমাদের নিরাপত্তা বলয়ও তত বড় করতে হবে।"
নিকিফোরভ আরও জানান, খারকিভ ও সুমি সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বলয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রুশ বাহিনীর যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দেশের অন্যান্য কর্মকর্তারা দাবি করছেন, বছরের শুরু থেকে পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার অগ্রগতি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে গেছে। এমনকি ইউক্রেনীয় বাহিনী কিছু এলাকা পুনর্দখলও করেছে।
যাহোক, পুতিন ইউক্রেনের এসব বক্তব্যকে ‘তথ্যযুদ্ধের অংশ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। গত মাসে, জেলেনস্কি সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব জানিয়ে পুতিনের কাছে একটি উন্মুক্ত চিঠি পাঠালেও ক্রেমলিন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংকটের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে, মস্কো ও কিয়েভ উভয়েই জানিয়েছে, দুই প্রধান মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যার্ড কুশনার শিগগিরই সফরে আসতে পারেন বলে তারা আশা করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন