প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেকোনো অনৈতিক আচরণ বা শিশু নিপীড়ন গ্রহণযোগ্য নয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে সংগঠনটি এই বিষয়টি তুলে ধরে।
বিবৃতিতে সংগঠনের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনের অভিযোগ উঠেছে। তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে কোনো অনৈতিক আচরণ বা শিশু নিপীড়ন যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি আইন হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয়।
তাদের মতে, যে কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি।
হেফাজতের দুই শীর্ষ নেতা বিবৃতিতে বলেন, শিশু যৌন নির্যাতনের সমস্যা একটি পুরনো অভ্যন্তরীণ সামাজিক সমস্যা। এটি শুধুমাত্র কোনো একটি কমিউনিটিকেন্দ্রিক সমস্যা নয়। স্কুল, মাদরাসা, এমনকি অন্যান্য পরিসরেও এই সমস্যাটি কম-বেশি বিদ্যমান।
তারা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সকল ধরনের শিক্ষার্থী নিপীড়ন রোধের লক্ষ্যে চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ দেশের ছয়টি কওমি মাদরাসা বোর্ড এবং এর আওতাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনায় প্রতিটি মাদরাসায় ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন বা সচল করার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থী নিপীড়ন বা অনৈতিক আচরণের যে কোনো অভিযোগ সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে তদন্তপূর্বক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাদরাসা বোর্ডগুলোকে শক্তিশালী মনিটরিং সেল এবং অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সতর্কতা হিসেবে জানানো হয়েছে যে, কোনো মাদরাসায় ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ না থাকলে, কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকলে, অথবা কোনো অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সেটির অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বস্তি সর্বদা অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে তারা বলেন, এ ক্ষেত্রে স্কুল ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
হেফাজতের নেতারা সকল স্কুল-মাদরাসাকে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো নৈতিক পদস্খলনের জন্য দোষী ব্যক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত উভয় শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা বা আপস চলবে না।
শৈশব ও কৈশোরের সুশিক্ষা এবং নিরাপদ বেড়ে ওঠার দায়িত্বে কোনো ছাড় নেই বলে জানিয়েছে হেফাজত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন