প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘এই ড্রেনই আমার বাজানরে খাইছে। সরকারি লোকজন এইডা ঠিক না করলে আরো অনেকরে খাইবো।’
ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার চারআনি পাড়া মহল্লায়, বাড়ির সামনের গভীর ড্রেনে পড়ে একমাত্র ছেলে প্রান্ত মিয়া মারা যাওয়ার পর বাবা রবি মিয়া এই কথাগুলো বলছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার, স্লাববিহীন ড্রেনটিতে পড়ে যায় প্রান্ত। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু অবস্থার অবনতি ঘটলে আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রান্ত চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। চলতি বছর অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় সে অকৃতকার্য হয়েছিল।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে জাইকা নামক একটি উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়নে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ চারআনিপাড়া মহল্লার সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হয়। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্লাব বা ঢাকনা না দিয়েই কাজ শেষ করে চলে যায়।
দীর্ঘ আট বছর ধরে একই অবস্থায় থাকায় ড্রেনটি লতাপাতা, আগাছা এবং লোকজনের মৌসুমী সবজির চারায় ঢেকে যায়, ফলে এটি মারণ ফাঁদে পরিণত হয়। গত আট বছরে এই ড্রেনে পড়ে অনেকেই গুরুতর আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
এদিকে, স্কুলছাত্র প্রান্তের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চরম অবহেলার জন্য দায়ী করে তাদের কঠোর শাস্তি ও বিচার দাবি করেছেন।
নান্দাইল পৌরসভার প্রকৌশলী উত্তম কুমার দাস এই ঘটনার বিষয়ে জানান, তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে খুব দ্রুত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন