প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে নিরাপত্তা কৌশলের কারণে সরকারপ্রধানকে জনগণের থেকে আলাদা না করা হয়।
তিনি রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকার সেনানিবাসে পিজিআর’র ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আস্থা ও নির্ভরতা রাখতে চাই।" তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা কৌশলের বিন্যাস এমনভাবে হওয়া উচিত যাতে সরকার প্রধানকে জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না হয়।
পিজিআর সদস্যদের প্রতি দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যরাই পিজিআরের দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ, পিজিআর একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এবং এটি সেনাবাহিনীর অধীন। সুতরাং, পেশাদারিত্ব, আনুগত্য এবং শৃংঙ্খলার সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যরা নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালনের জন্য নিয়োজিত রয়েছে।
পিজিআরের কাজ চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্ব পালন করাও পিজিআর-এর কর্তব্য। এ সব দায়িত্ব পালনে সদস্যদের নানারকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা তাদেরকে একটি সুশৃংঙ্খল বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
Prime Minister Tarik Rahman ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সশস্ত্রবাহিনী দেশের সাহস এবং গৌরবের প্রতীক। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, "সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্নভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।"
তিনি আরো বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ করে, তবেই দেশের সার্বভৌমত্ব কখনও হুমকির মুখে পড়বে না।"
শুরুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৭৫ সালের এইদিনে প্রথমে ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল। পরে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান রেজিমেন্টটি ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ হিসেবে নাম দেন। এই নামকরণ রেজিমেন্টের কার্যক্রমকে আরো দৃঢ়তা ও গতিশীলতা প্রদান করে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করা হয়। তিনি পিজিআর সদর দফতরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
প্রতি বছর ৫ জুলাই পিজিআর-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করতে এই বাহিনী গঠিত হয়। ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দফতরে বার্ষিক দরবার এবং সুসজ্জিত কুচকাওয়াজের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়। পিজিআর মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত ইউনিট এবং এটি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সামরিক দায়িত্ব পালন করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন