প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পারস্পরিক তিক্ততার কারণে সম্পর্কের বিচ্ছেদ একটি সময় পর অবার্য হয়ে পড়ে। এটি একটি পুরোনো বিষয়। তবে মাউরো ইকার্দির প্রতি ওয়ান্ডা নারার ক্ষোভ যেন শেষ হচ্ছে না। এবার তিনি সাবেক স্বামীকে খোঁচা দিতে অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছেন আর্জেন্টাইন মডেল ও ব্যবসায়ী ওয়ান্ডা।
ওয়ান্ডা তার অনলাইন দোকানে ইকার্দির আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি বিক্রির জন্য দিয়েছেন। দাম রাখা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার পেসো। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি ১ হাজার ছয়শত টাকার সমান। তবে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো জার্সির বর্ণনা। সেখানে ইকার্দির নাম উল্লেখ না করে লেখা হয়েছে, ‘সাবেক খেলোয়াড়ের আসল জার্সি, খুব কম ব্যবহার করা হয়েছে।’
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওয়ান্ডা তার অনলাইন বিক্রয়মাধ্যম 'ওয়ান্ডা শপ'-এ ইকার্দির জাতীয় দলের ৯ নম্বর জার্সির বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। জার্সির পেছনে স্পষ্টভাবে 'ইকার্দি' নামটি লেখা থাকলেও বিজ্ঞাপনের শিরোনামে সাবেক স্বামীর নাম উল্লেখ করেননি তিনি।
বরং জার্সির বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ৯ নম্বর জার্সি, সাবেক খেলোয়াড়।’ এতে যোগ করা হয়েছে, এটি খুব কম ব্যবহার করা হয়েছে। এই দুটি শব্দ নিয়েই আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে ইকার্দির ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ ছিল না। তিনি মোট আটটি ম্যাচ খেলেছেন এবং গোল করেছেন একটি। ওয়ান্ডা জার্সির এমন বর্ণনা দিয়ে এই বিষয়টিকে ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
বর্ণনাই নয়, জার্সির দামও সমর্থকদের অবাক করেছে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের একটি আসল জার্সি, সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলারের নাম ও নম্বর সংবলিত, অথচ দাম মাত্র ২০ হাজার আর্জেন্টাইন পেসো, যা প্রায় ১২ ইউরোর সমান। এমনকি কিস্তিতে কেনার সুযোগও রাখা হয়েছে।
জার্সিটি ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের সময়কার নকশায় তৈরি। যদিও ওই বিশ্বকাপে ইকার্দি আর্জেন্টিনা দলে জায়গা পাননি। ২০১৩ সালে তৎকালীন আর্জেন্টিনা কোচ আলেহান্দ্রো সাবেইয়ার অধীনে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল এই স্ট্রাইকারের। ব্রাজিল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে উরুগুয়ের বিপক্ষে ৩-২ গোলে হারের ম্যাচে প্রথমবার জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেন তিনি।
এরপর দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন ইকার্দি। ২০১৭ সালে হোর্হে সাম্পাওলির অধীনে আবারও সুযোগ পান। পরের বছর রাশিয়া বিশ্বকাপের দলে জায়গা না পেলেও বিশ্বকাপ শেষে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে করেন আর্জেন্টিনার হয়ে একমাত্র গোলটি।
ইন্টার মিলানে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও জাতীয় দলে নিয়মিত হতে পারেননি ইকার্দি। আট ম্যাচ ও এক গোলেই থেমে যায় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। সেই সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারকেই ওয়ান্ডার বিজ্ঞাপনের 'খুব কম ব্যবহার' কথাটি মনে করিয়ে দিয়েছে।
ইকার্দি ও ওয়ান্ডার সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন নয়। ২০১৪ সালে তারা বিয়ে করেছিলেন। এরপর একাধিকবার বিচ্ছেদ ও পুনর্মিলনের খবর আসে। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালে তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি অক্টোবরেই তাদের বিবাহবিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক রায় দিয়েছে ইতালির মিলানের আদালত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন