প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি অ্যালিকো ড্যাঙ্গোটে তার বিশাল তেল শোধনাগার কোম্পানির শেয়ার সাধারণ জনগণের কাছে বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। নাইজেরিয়ার শেয়ারবাজারে এই মেগা আইপিও (জনগণের প্রাথমিক শেয়ার ইস্যু)-কে কেন্দ্র করে পুরো মহাদেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে। এটি আফ্রিকার ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ শেয়ার বিক্রি কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ৪১০ কোটি (৪.১ বিলিয়ন) শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ড্যাঙ্গোটে রিফাইনারি প্রায় ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার (২.১৫ ট্রিলিয়ন নাইজেরিয়ান নাইরা) সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অর্জিত অর্থ প্রতিদিন ৭ লাখ ব্যারেল প্রক্রিয়াজাতকরণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই রিফাইনারির সক্ষমতা দ্বিগুণ করার কাজে ব্যবহার করা হবে। শেয়ার বিক্রির প্রথম দিনেই অভূতপূর্ব চাহিদার কারণে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় বিনিয়োগ অ্যাপ অচল হয়ে পড়ে। মাত্র ৪ ডলারে (৫,৫২৫ নাইরা) সর্বনিম্ন শেয়ার কেনার সুযোগ পাওয়ায় সাধারণ নাইজেরীয়দের মাঝে এক ধরনের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
তবে এই শেয়ার বিক্রি ও অ্যালিকো ড্যাঙ্গোটের কৌশলকে ঘিরে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মাঝে দ্বিধাবিভক্ত মতামত দেখা দিয়েছে:
'পিপলস আইপিও' ও স্বাবলম্বিতার বার্তা: ৬৯ বছর বয়সী ড্যাঙ্গোটে এটিকে 'সম্পদ সৃষ্টির গ্যাণতন্ত্রীকরণ' হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, আমদানিনির্ভর আফ্রিকার জন্য এটি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা আনার বড় পদক্ষেপ। বর্তমানে এই শোধনাগার নাইজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদার ৭০ শতাংশের বেশি যোগান দিচ্ছে।
একচেটিয়া আধিপত্য ও পরিবেশগত বিতর্ক: অক্সফামসহ বিভিন্ন সংস্থার মতে, সিমেন্ট খাতের মতো তেল খাতেই ড্যাঙ্গোটের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ (Monopoly) তৈরি হচ্ছে, যা ছোট প্রতিযোগীদের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া তার শিল্প কারখানার কারণে পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগও উঠেছে অতীতে।
বিনিয়োগ ঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এর চাহিদা বেড়েছে। তবুও বিশেষজ্ঞরা অনভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, শেয়ার বাজারের অস্বাভাবিক ওঠানামা থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত মূল্যায়িত শেয়ার ধরে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সমালোচনা কিংবা সম্ভাবনা—যাই থাকুক না কেন, আফ্রিকার অর্থনৈতিক অবকাঠামো ও নিজস্ব প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা তৈরিতে ড্যাঙ্গোটের এই ‘আমদানি প্রতিস্থাপন’ নীতি বড় ধরনের রূপান্তর ঘটাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন