প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ তেল ও গ্যাস কোম্পানি শেল লাভবান হয়েছে।
গত প্রান্তিকে শেলের লাভ দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তারা জানায়, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে তাদের লাভ দাঁড়িয়েছে ১০.৮ বিলিয়ন ডলার (এক হাজার ৮০ কোটি ডলার)। ২০২৫ সালের একই প্রান্তিকে তাদের লাভ ছিল ৫.৪৩ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল, শেলের লাভের পরিমাণ হবে ১০.৩৩ বিলিয়ন ডলার (এক হাজার ৩৩ কোটি ডলার)। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি লাভ হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, শেয়ার পুনঃক্রয় কর্মসূচির পরিমাণ বাড়িয়েছে শেল। তারা আগামী তিন মাসে ৫০০ কোটি ডলারের নিজস্ব শেয়ার কিনবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেবে কোম্পানিটি। আগের প্রান্তিকে এই খাতে ব্যয় ছিল ৩০০ কোটি ডলার।
শেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়ায়েল সাওয়ান মন্তব্য করেন, “বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা চলছে।” তিনি বলেন, “এর মধ্যেও শেল ভালো ব্যবসায়িক ফলাফল অর্জন করেছে।” পরিচালনগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর ধারাবাহিকভাবে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে এই সাফল্য এসেছে।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় শেলের মুনাফা বেড়েছে। ওই সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা ছিল ৯৮৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। চলতি মাসের শুরুতে শেল বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছিল, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে তাদের তেল শোধনাগারের মুনাফার হার বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময়ে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি উৎপাদনে মুনাফা ৪২ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল কোম্পানিটি। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতি ব্যারেলে এ মুনাফার হার ছিল ২৪ ডলার।
গ্যাস উৎপাদন কমেছে: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে শেলের লাভ বাড়লেও গ্যাস উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে কোম্পানিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে শেল প্রতিদিন ৯ লাখ ব্যারেল তেলসমতুল্য গ্যাস উৎপাদন করত। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর কোম্পানিটির উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।
পরিবেশবাদীদের সমালোচনা: শেলের দ্বিগুণ লাভ করার খবর পরিবেশবাদীদের জন্য সুখকর নয়। আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসের জ্যেষ্ঠ প্রচারক ফিলিপ ইভান্স বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে সৃষ্ট ঝড়, বন্যা ও লাগামহীন ব্যয় মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করছে। অথচ শেলের মতো তেল কোম্পানির নির্বাহীরা এই সংকটের মধ্যেও মুনাফা করছেন। আমরা জীবন ও উপার্জন হারিয়ে এর মূল্য দিচ্ছি। আর তাঁরা আমাদের দুর্ভোগ থেকে অর্থ আয় করছেন।”
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন