প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে উদ্বোধন করবেন। এই উদ্বোধনটি সকাল ১১টায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এই তিনটি গ্রাম হলো—রাঙামাটি কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনা দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর। বর্তমান সরকার দেশের টেকসই উন্নয়নে অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে।
এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের আলোকে গ্রামে দারিদ্র্য হ্রাস, জলাবদ্ধতা নিরসন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা থাকবে এই প্রকল্পে। এ ধরনের সুযোগ পাওয়ার জন্য রাঙামাটির মিতিঙ্গাছড়ির গ্রামবাসী উচ্ছ্বাস ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
এসডিজি গ্রাম সম্পর্কে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি আদর্শ গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা, যেখানে জাতিসংঘের নির্ধারিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা বৈশ্বিক লক্ষ্যগুলো স্থানীয় পর্যায়ে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনের মানোন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ রক্ষা এবং সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের একটি স্থায়ী মডেল দাঁড় করানো হবে।’
তিনি আরো জানান, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হ্রাস এবং মানসম্মত শিক্ষা বিস্তার, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, কুটিরশিল্প ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষি খাতের উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, বনায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সক্ষমতা তৈরি, গ্রামের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবা ও তথ্য-প্রযুক্তির সুযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে।
এসবের মাধ্যমে একটি গ্রামের সব নাগরিক আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন দক্ষ, স্বাস্থ্যসম্মত এবং সুনাগরিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, ‘এটি সমগ্র কাপ্তাইবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়। ১০ আগস্ট কাপ্তাইয়ের জাতীয় জীবনে একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রান্তিক জনসংখ্যার উন্নয়ন এবং গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এসডিজি প্রকল্পের আওতায় মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামকে পাইলট প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করায় আমরা আনন্দিত।’
প্রকল্পের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প সমন্বয়ক মো. মঞ্জুরুল হক জানান, স্থানীয় প্রতিটি সমস্যা চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে।
সরকারের সব ধরনের আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করে এটিকে একটি আদর্শ এসডিজি ভিলেজ হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা পরবর্তী সময়ে সারা দেশের গ্রামগুলোর জন্য টেকসই উন্নয়নের অনুকরণীয় মডেল হিসেবে কাজ করবে।
গ্রামবাসী জানান, রাস্তাঘাট তাড়াতাড়ি পরিবর্তন হলে তো আমাদের জন্য ভালো হবে। রাস্তাঘাট হয়ে গেলে, যদি ছোটখাটো একটি স্কুল হয় এলাকায়, তাহলে আরো উন্নয়ন হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্রামের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ ও বাংলাদেশ পরিকল্পনা বিভাগের এই পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে সারা দেশসহ বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেবে সরকার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন