প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আদিবাসী জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই গণশুনানিতে স্থানীয় আদিবাসী জনগণের ৭০ জন সদস্য, ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতা, বিভিন্ন এনজিও এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল নবাবগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের রাজবাড়ি গ্রামে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গণশুনানিতে আদিবাসী জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা, কিস্তি পরিশোধের চাপ, ঋণের যথাযথ ব্যবহার এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়েও অংশগ্রহণকারীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
আদিবাসী সদস্যরা জানান, আদিবাসী জনগণের অনেক পরিবার এখনও দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের সংকট ও পর্যাপ্ত পুঁজির অভাবে পিছিয়ে রয়েছে। তাদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ ও আর্থিক সেবা সহজলভ্য করা গেলে কৃষি, পশুপালন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও অন্যান্য আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে ভালো আচরণ, ঋণের শর্তাবলি সহজভাবে জানানো এবং তাদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়।
গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের পরিচালক অসীম রাউত জানান, মাঠপর্যায়ে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র জানতে এবং উপকারভোগীদের সরাসরি মতামত গ্রহণ করতেই এ ধরনের গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। গণশুনানিতে পাওয়া মতামত ও অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরীর এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড: মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, এ ধরনের গণশুনানি আদিবাসী জনগণের সমস্যা সরাসরি তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত তদারকি, স্বচ্ছ ঋণব্যবস্থা এবং আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো গেলে নবাবগঞ্জের আদিবাসী পরিবারগুলোর জীবনমান আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপ-পরিচালক মো: আরিফুজ্জামান এবং স্বাগত বক্তব্য দেন পরিচালক মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম পরিচালক মোঃ ফরিদুল হক, জনাব উপ-পরিচালক জনাব লায়লা জাবীন, সৈয়দ আশিক ইমতিয়াজ, সহকারী পরিচালক মেনহাজুল আবেদীন এবং গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের পরিচালক অসীম রাউত সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন