প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে মাদকাসক্ত ছেলেকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা-মাকে পুলিশ আটক করেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে শহরের আসামবস্তি এলাকার জনৈক সিরাজ সওদাগরের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাকিবুল ইসলাম (২৫) অটোরিকশাচালক রফিকুল ইসলাম ও গৃহবধূ রাখাই ইসলামের দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে।
পারিবারিক সূত্র ও স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, সাকিবুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তাকে মাদকের আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার চিকিৎসা করানো হয় এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠানো হয়। কয়েক মাস আগে তাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করাতে তাঁর বাবা প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করেন। তবে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পরও তিনি আবার মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে পরিবারের দাবি।
স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকাসক্তির কারণে সাকিবুলের আচরণে পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ছিল। মাদক সেবন এবং কথিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পরিবারের সঙ্গে প্রায়ই তাঁর বাগ্বিতণ্ডা ও বিরোধ হতো। থানা ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। কিছুদিন আগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও মাদক সেবন ও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছ।
শনিবার দুপুরে সাকিবুলের সঙ্গে তাঁর বাবা-মায়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতির উত্তাপ বৃদ্ধি পাওয়ার পর তাঁর মা ধারালো দা দিয়ে ছেলের ঘাড়ে কোপ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরে স্থানীয় অটোরিকশাচালক সাইফুল ইসলাম আহত সাকিবুলকে উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফুয়াদ হাসান জানান, ঘাড়ে গুরুতর কাটা জখম অবস্থায় সাকিবুলকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সময়ই তাঁর মৃত্যু ঘটে। হাসপাতালে আনার আগে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্তসঞ্চালন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে থাকতে পারে বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
রাঙামাটি কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এবং নিহতের বাবা-মাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া ও মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে এসেছে, ছেলেকে মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে বাবা-মা দীর্ঘদিন ধরে নানা চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। দরিদ্র অটোরিকশাচালক বাবা সন্তানের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করে তবুও তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারেননি বলে স্বজনরা জানান।
দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি, মাদকাসক্তি এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে শেষ পর্যন্ত বাবা-মায়ের হাতেই ছেলের মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি এবং কার আঘাতে সাকিবুলের মৃত্যু ঘটেছে, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন