প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ চট্টগ্রাম কলেজে মিলনায়তনে একটি মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে বক্তব্য দেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, “২০০৬ সালে আমরা ‘নকল’ শব্দটির কবর দিয়ে এসেছি। এটা নিয়ে আমি আরও কথা বলতে চাই না। এখন নকল ডিজিটাল রূপ নিয়েছে, সেটাকে সেভাবেই প্রতিহত করতে হবে। তাই পরীক্ষাকেন্দ্রে البته সিসি ক্যামেরা থাকতে হবে। যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে ডিজিটাল ভিজিল্যান্স।”
আজকের মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী আরো বক্তব্য দেন। এই সভায় চট্টগ্রাম বোর্ড, চট্টগ্রাম অঞ্চলের কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিবসহ অনেক ধরনের কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন আরও বলেন, দেশে প্রায় ৩০ হাজার মামলাজটের কারণে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, “২০১৭ সালে একটি আইনি জটিলতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫০০ জনকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া থমকে আছে।” তবে তিনি বলেন, আগামী ২ জুলাই আপিল বিভাগে এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ওই দিন কাঙ্ক্ষিত রায় পাওয়ার মধ্য দিয়ে এই শূন্য পদগুলো পূরণের প্রবণতা সৃষ্টি হবে।
শিক্ষাব্যবস্থায় অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন জায়গায় একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের গুপ্ত অনুসারীরা রয়েছে, যারা আমাদের শিক্ষার উন্নয়নে সহযোগী হতে চাইছে না।” তিনি জুলাই আন্দোলনে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন এবং স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন যে প্রশাসনে কোনো ধরনের দুর্বলতা মেনে নেওয়া হবে না। বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্তির বিশাল ব্যাকলগ পূরণের জন্য ৭৭ হাজার নতুন শিক্ষক প্রয়োজন।
শিক্ষা খাতের বাজেট প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী মন্তব্য করে বলেন, বিগত সরকারের আমলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বাজেটকে শিক্ষা খাতে ঢুকিয়ে একটি ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি জানান, “এবার বর্তমান সরকার শিক্ষায় ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল ও বাস্তবসম্মত বাজেট দিয়েছে এবং এই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।”
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বিগত বছরগুলোতে প্রশ্নফাঁস দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বৃহৎ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই চক্রকে ভাঙতে এবং পরীক্ষার শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একযোগে কাজ করছে।” তিনি জানান, “প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে আমি নিজে বিজি প্রেসে (বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট প্রেস) গিয়ে পাহারা দিয়েছি এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি।”
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) এবং সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “সব বোর্ডের খাতা আমরা রেন্ডমলি চেক করে দেখবো, কেউ কম বা বেশি নাম্বার দিয়ে দিলো কিনা।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, “বাংলাদেশে একটি উন্নতর শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে যেতে কাজ করছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সরকার নানা পলিসি সেট করছে। সরকারের পলিসি যারা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন তারা আমাদের অত্যন্ত সম্মাননীয় শিক্ষক মন্ডলী। আপনারা যদি আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠার সাথে নিজ দায়িত্ব পালন করতে না পারেন তাহলে আপনারা শুধু নিজেদেরকে বঞ্চিত করছেন না, আগামীর প্রজন্ম যারা বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে তাদেরকে একটি বন্ধ্যাত্বের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “একটি আত্মনির্ভর, সমৃদ্ধিশালী এবং প্রগতিশীল বাংলাদেশ যদি আমরা বিনির্মাণ করতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাদের আগামী প্রজন্মকে শুধু শিক্ষিত না তার পাশাপাশি আমাদেরকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই শিক্ষাটা শুরু হবে কিন্তু একদম প্রাইমারি লেভেল থেকে।” সেজন্য প্রাইমারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে যারা দেখাশোনা করছেন তাদেরকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ মোজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন