প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন সরাসরি খামারিদের ভাগ্যোন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। তিনি উল্লেখ করেন, “খামারিরা উন্নত হলে দেশের অর্থনীতি উন্নত হবে। তাই খামারিদের উৎপাদন বাড়াতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”
তিনি মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ খাত দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই খাতের উৎপাদন বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণিজ পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এজন্য খামারিদের উৎপাদনমুখী করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরাই প্রথম ডিম রপ্তানি শুরু করেছি।”
তিনি বলেন, একজন খামারি শুধুমাত্র নিজের পরিবারের কর্মসংস্থান করেন না, বরং তার সঙ্গে অনেক মানুষের জীবিকা জড়িত। খামারিদের টিকিয়ে রাখতে হলে উৎপাদন খরচ, ঋণ সুবিধা, পশুর চিকিৎসা ও বাজারজাতকরণসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করে টুকু বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নের সঙ্গে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিম্নমানের মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না।
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জনগণের আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিবাদীরা পলায়ন করেছে। তারা বিদেশে বসে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, এ দেশের জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। দেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে তা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মাদককে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হবে। মাদকের বিস্তার রোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দিন কবীর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহজামান খান, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান।
কর্মশালায় নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন, প্রাণিজ পণ্যের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন-২০১০ বাস্তবায়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রাণিজ পণ্যের অবস্থান শক্তিশালী করতে হলে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে মান নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য ব্যবহার, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি খামারিদের মাঝে গবাদিপশু বিতরণ করেন।
গবাদিপশু বিতরণের সময় খামারিদের উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ, পশুর যথাযথ পরিচর্যা এবং রোগ প্রতিরোধে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রীর এই সফরে নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, অন্যদিকে খামারিদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সহজ শর্তে ঋণসহ সরকারি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন