প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬ সালের জুলাই মাসে, হংকংয়ের ২৮ বছর বয়সী কোয়ো সং তাঁর বিক্রয় সহযোগী পদ এবং মাসে লাখ ডলারের বেতন ত্যাগ করে প্রেমিক ও ব্যবসায়িক অংশীদার ২৮ বছর বয়সী অ্যাভি বেনিতার সঙ্গে পূর্ণকালীনভাবে বেনালর-এর পরিচালনায় যুক্ত হন। বেনিতাও এই বছর চাকরি ছেড়েছেন। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বেনালর, মাত্র এক বছরের মধ্যে সাফল্যের সঙ্গে ৩ হাজার থেকে ২০ হাজার হংকং ডলার দামের আংটি, ব্রেসলেট, নেকলেস ও অন্যান্য গয়না বিক্রি করছে।
বেনালরের ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সরল। সব গয়না বিনামূল্যে গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তনযোগ্য বা অর্ডার অনুযায়ী তৈরি করা হয়। গ্রাহকেরা নিজেদের পছন্দের নকশা বা প্রাথমিক নকশা দেন, যা সং ও থাইল্যান্ডভিত্তিক কারিগরেরা ত্রিমাত্রিক নকশার মাধ্যমে পরিমার্জন করেন। এরপর, হীরা বসানো খাঁটি সোনা বা প্লাটিনামে হাতে তৈরি করে সারা বিশ্বে পাঠানো হয়। গ্রাহকদের মধ্যে আমেরিকা, হংকং, গুয়াতেমালা ও সুইজারল্যান্ডের ক্রেতারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী নকশা চূড়ান্ত করতে দুই মাস পর্যন্ত আলোচনা হতে পারে। আজীবন ওয়ারেন্টি, বিনামূল্যে মাপ পরিবর্তন এবং বিনামূল্যে পণ্য পরিবহন সৎ কারুশিল্পের ওপর বেনালরের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
প্রতিষ্ঠানটি ‘সংঘাতমুক্ত হীরা’ ব্যবহারের প্রচারও করে, যেসব হীরা যুদ্ধ বা সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেনাবেচা বা সংগ্রহ করা হয় না। অধিকাংশ গয়নায় গবেষণাগারে উৎপাদিত হীরা ব্যবহার করা হয়।
সং বলেন, “রাসায়নিক দিক থেকে পরীক্ষাগারে উৎপাদিত ও প্রাকৃতিক হীরা একই। তাই অনেক নারী ০.২ ক্যারেটের প্রাকৃতিক হীরার বদলে একই দামে চার ক্যারেটের কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত হীরা নিতে চান।”
সং ও বেনিতা প্রথমে পরিবর্তনযোগ্য হিল জুতা এবং ফ্যাশন স্টাইলিং সেবা নিয়ে ভাবছিলেন। পরে তাঁরা বেনিতার পারিবারিক যোগাযোগকে কাজে লাগান। তাঁর বাবা ৩০ বছর ধরে থাইল্যান্ডে বি-টু-বি (ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা) ভিত্তিক গয়না উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। সং বলেন, “আমরা ভাবলাম, এটিকে বি-টু-সি (ব্যবসা-থেকে-গ্রাহক) পর্যায়ে নিয়ে গেলে কেমন হয়? আমি যদি শুধু ওই অংশটুকু বাদ দিই, তাহলে আরও ভালো দামে দিতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, “তাই আমরা থাইল্যান্ডে উড়ে গেলাম, তাঁকে বসিয়ে বললাম, ‘যা যা জানা দরকার, আমাদের একেবারে শুরু থেকে সব শেখান।”
বেনালর কোনো পণ্য মজুত রাখে না, কারণ প্রতিটি গয়না অর্ডার অনুযায়ী তৈরি হয়। তাদের ই-বাণিজ্যভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেল ভাড়ার খরচও এড়িয়ে যায়। সং ও বেনিতা নিজেরাই প্রাথমিক মূলধন জোগান দেন। তবে দম্পতি হিসেবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা কঠিন ছিল।
সং বলেন, “এই ব্যবসা চালাতে গিয়ে একবার আমাদের বিচ্ছেদও হয়েছিল।” পরে, সম্পর্ক পুনর্গঠনের পর তাঁরা ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কথাবার্তা আলাদা রাখেন। উদাহরণ দিয়ে সং বলেন, “আমি এখন তোমার সঙ্গে আমার প্রেমিক হিসেবে কথা বলছি। অথবা, চল ব্যবসা নিয়ে কথা বলি।” বেনিতা সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়ন সামলান, আর সং গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিপণন দেখেন। বর্তমানে বেনালরের বার্ষিক আয় ১০ লাখ মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক গ্রাহক বাড়তে থাকলেও সং হংকংয়ে স্থায়ী দোকানের ঝুঁকির বদলে মাঝে মাঝে অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র করার পক্ষপাতী। তাঁর ভাষায়, গতানুগতিক চাকরি ছেড়ে দেওয়ার অর্থ পিছিয়ে পড়া নয়, বরং নতুন এবং আরও সৃজনশীল এক ধরনের কঠোর পরিশ্রমের জীবনে প্রবেশ করা।
সূত্র: বঙ্গরামা, ইউটিউব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন