প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে আহত এক ভেনেজুয়েলীয় নাগরিকের শরীর থেকে আটকে থাকা গুলি বের করার জন্য বৃহস্পতিবার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে তার মেরুদণ্ডের কাছে গুলিটি আটকে ছিল।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
২৮ বছর বয়সী উইলবার গারসেস অস্টিন শহরে ডেলিভারি চালক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তাদের একটি অভিযানের সময় পিঠে গুলিবিদ্ধ হন।
বুধবার আদালতে শুনানি শেষে তাকে ফেডারেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারক তার জামিনের আবেদনও নাকচ করে দেন।
গারসেসের আইনি দলের অন্তর্ভুক্ত অধিকার সংগঠন টেক্সাস সিভিল রাইটস প্রজেক্ট (টিসিআরপি) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আজ তার অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠার পর্যায়ে আছেন।’
এই ঘটনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের সময়ের মধ্যে ঘটে। ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেছে।
সোমবার প্রসিকিউটররা গারসেসের বিরুদ্ধে একজন ফেডারেল কর্মকর্তাকে হামলা, প্রতিরোধ, কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ আনেন। এসব অভিযোগের জন্য সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
এর আগে গারসেস আইসিইর হেফাজতে ছিলেন এবং পরে তাকে একটি ফেডারেল কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন, যারা আইসিইর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ করেছেন অথবা আইসিইর হাতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে সরকার প্রায়ই এ ধরনের অভিযোগ প্রতিশোধমূলকভাবে ব্যবহার করে। এর অনেক উদাহরণ রয়েছে।
টেক্সাসের ফেডারেল বিচারক ডাস্টিন হাওয়েল গারসেসের জামিন আবেদন নাকচ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গারসেস পালিয়ে যেতে পারেন। বিচারকের মতে, ভিডিও ফুটেজে গারসেসকে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালাতে এবং গাড়ি দিয়ে একজন কর্মকর্তাকে আঘাত করতে দেখা গেছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, গারসেস প্রথমবার কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার পর পালিয়ে যান এবং তার গাড়ির সাইড মিরর দিয়ে একজন কর্মকর্তাকে আঘাত করেন।
পরে কর্মকর্তারা তাকে ধরে ফেললে এলজি নামে চিহ্নিত এক কর্মকর্তা বলেন, গারসেস তাকে গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন তিনি গুলি চালান বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
তবে গারসেসের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি দাবি করেন, আত্মসমর্পণের আগে তিনি কর্মকর্তাদের তার গাড়িটি নিরাপদ জায়গায় পার্ক করতে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কর্মকর্তারা তা না করে তার গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং এরপর গুলি চালানো হয়। সেই গুলি তার পিঠে লাগে বলে তিনি দাবি করেন।
টিসিআরপি বলেছে, ঘটনাটি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, গুলি চালানো এলজি নামের কর্মকর্তা ওই সময় কোনো বডি ক্যামেরা পরেননি। আর ডিএফ নামে চিহ্নিত যে কর্মকর্তা গারসেসকে ধাওয়া করছিলেন, তিনি ঘটনার একপর্যায়ে তার ক্যামেরা বন্ধ করে দেন।
টিসিআরপি বলেছে, ‘এই ঘটনার শেষ পর্যন্ত কীভাবে গুলির ঘটনা ঘটল, তার পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড এখন জনসাধারণের সামনে নেই।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন