প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারি সম্পত্তি, কিন্তু সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। জলাশয় এবং পানি রয়েছে; তবে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে। ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন ১৩টি পুকুর বছরের পর বছর ধরে দখলে রয়েছে। সদর, শৈলকুপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা এই পুকুরগুলোর মোট আয়তন ১৫ দশমিক ২৮ একর।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এসব জলাশয় থেকে প্রতি বছর ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব আহরণ সম্ভব। কিন্তু দখলমুক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ইজারা না দিলে সেই সম্ভাবনাও কাজে লাগানো হচ্ছে না। ফলে সরকারি সম্পদের ব্যবহার হচ্ছে না এবং সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে।
রাজস্বের পাশাপাশি, এসব জলাশয়ের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও জড়িত। পুকুরগুলো দখলমুক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ইজারা দেওয়া গেলে স্থানীয়ভাবে মাছ চাষের মাধ্যমে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। মাছচাষি, জেলে, শ্রমিক, মাছ ব্যবসায়ী এবং পরিবহনকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় চারটি, শৈলকুপায় পাঁচটি এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় চারটি পুকুর রয়েছে। হরিণাকুণ্ডুর চারটি পুকুরের মোট আয়তন ৫ দশমিক ৪৩ একর, যার সম্ভাব্য রাজস্ব ৫৪ হাজার টাকা। শৈলকুপায় পাঁচটি পুকুরের মোট আয়তন ৬ দশমিক ৬০ একর, সম্ভাব্য রাজস্ব ৬৬ হাজার টাকা। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চারটি পুকুরের মোট আয়তন ৩ দশমিক ২৫ একর, যার সম্ভাব্য রাজস্ব ৩২ হাজার ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে ১৩টি পুকুরের আয়তন ১৫ দশমিক ২৮ একর এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পত্তি দখলে থাকলে সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হয় না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দখল আরো পাকাপোক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, "সরকারি পুকুর দখলে পড়ে থাকলে সরকারের রাজস্বও আসে না, এলাকার মানুষও কোনো সুবিধা পায় না। এগুলো দখলমুক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ইজারা দেওয়া হলে সরকার যেমন আয় করবে, তেমনি স্থানীয় মানুষও মাছ চাষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।"
আরেক বাসিন্দা রহিম মন্ডল বলেন, "পুকুরগুলো যদি সরকারি সম্পত্তি হয়, তাহলে এগুলো ফেলে না রেখে সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করা দরকার। পরে ইজারা দিলে সরকারও রাজস্ব পাবে এবং এলাকার অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে।"
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "পুকুর উদ্ধার করে যদি মাছ চাষ করা যায়, তাহলে একই সঙ্গে সরকার রাজস্ব পাবে এবং অনেক মানুষের কাজের সুযোগ হবে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।"
এদিকে, জলাশয় দখলমুক্ত করার কাজ চলছে জানিয়ে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, "সরকারি জলাশয় দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।"
তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন যেসব জলাশয় দখলে রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি যাতে অবৈধভাবে কেউ ভোগদখল করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রঞ্জন কুমার দাস আরো বলেন, "দখলমুক্ত করার পর সংশ্লিষ্ট নিয়মনীতি অনুসরণ করে এসব জলাশয় ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জলাশয়গুলো মাছ চাষের কাজে ব্যবহার করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন