প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুরের কাউনিয়ায় মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পাঁচ আসামিকে খালাস প্রদান করেছে হাইকোর্ট।রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন- নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির (জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশ) রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মো. মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী এবং জেএমবি সদস্য মো. লিটন মিয়া ওরফে রফিক। খালাস পাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- ইছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল, সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান, জেএমবির উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি এবং চান্দু মিয়া। উচ্চ আদালত এই আসামিদের আপিল মঞ্জুর করে রায় প্রদান করেছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকী।আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আনোয়ার হোসেন, মো. আতিকুল ইসলাম সেলিম।
আইনজীবী আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘মূলত মাসুদ রানা ও মো. লিটন মিয়ার স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেছেন, মাসুদ রানা ও লিটন মিয়ার স্বীকারোক্তি একজন আরেক জনেরটাকে সমর্থন করেছে। এমনকি মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্যেও এই দুজনের স্বীকারোক্তিকে সমর্থন করেছে।
এই বিবেচনাতেই মাসুদ ও লিটনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।পাঁচ জনের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কিনা জানতে আইন কর্মকর্তা আল আমীন সিদ্দিকীকে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এর আগে ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে মাজার শরীফের খাদেম রহমত আলীকে (৬০) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে রহমত আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মামুন অর রশীদ ২০১৬ সালের ৩ জুলাই জেএমবির রংপুর আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রীসহ ১৪ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
২০১৭ সালের ১৬ অগাস্ট ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ দেওয়া রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে খালাস দেন বিচারক। পরে মামলার ডেথ সরেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। আসামিরা প্রথমে জেল আপিল ও আপিল করেন। এসবের ওপর শুনানির পর গতকাল রায় দেন উচ্চ আদালত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন