প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদেরকে নিজেদের স্কুল পরিষ্কার রাখতে এবং ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে একে অপরকে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বুধবার ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির অধীনে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর স্থাপিত স্টল পরিদর্শনকালে তিনি এই আহ্বান জানান।
এর আগে সেখানে একটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ‘গ্রিন স্কুল’ বা সবুজ বিদ্যালয় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন।
প্রদর্শনীতে ৬০টি জেলার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা উদ্ভাবনী শিক্ষামূলক কার্যক্রম, স্থানীয় ঐতিহ্য, হস্তশিল্প, পরিবেশগত উদ্যোগ এবং সৃজনশীল শিক্ষণ প্রকল্প প্রদর্শন করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ প্রদান, দেশব্যাপী ‘সবুজ বিদ্যালয়’ বৃক্ষরোপণ অভিযানের উদ্বোধন এবং সারাদেশ থেকে আসা প্রাথমিক শিক্ষার উদ্ভাবনী উদ্যোগসমূহের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশু, শিক্ষক এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মতবিনিময় করেন। তিনি তাদের সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন এবং অনুপ্রেরণা জোগাতে তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করেন।
বিভিন্ন স্টলে প্রধানমন্ত্রী প্রবেশ করার সাথে সাথে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে তাদের তৈরি করা হস্তশিল্প, মডেল এবং শিক্ষা উপকরণ প্রদর্শন করে।
শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, খেলার মাঠের সুবিধা এবং ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘ডিজিটাল শিক্ষা’ কর্মসূচির অধীনে বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের তাদের প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি খেলাধুলা নিয়েও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ করেন। খুদে শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি জানতে চান, তারা কী কী ধরনের খেলাধুলা করে। শিক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের ব্যাখ্যা তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
একটি স্টলে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর নিকট জানায়, তারা সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সহপাঠীদের সাহায্য করতে এবং একসঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়ার জন্য নিয়মিত টিফিনের টাকার একটি অংশ জমায়। এই কথা শুনে প্রধানমন্ত্রীর মুখে খুশির ছাপ পরিলক্ষিত হয়। তিনি তাদের উৎসাহিত করে বলেন, ‘তোমরা খুব ভালো কাজ করছো’। শিক্ষার্থীরা তাদের দৈনন্দিন ক্লাসের রুটিন, টিফিনের বিরতি এবং পাঠ্যক্রমের বাইরের কার্যক্রম সম্পর্কেও অবহিত করে।
অন্য একটি স্টল পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করমর্দন করেন। এ সময় তিনি তাদের উৎসাহিত করেন, যাতে স্কুল সব সময় পরিষ্কার রাখে। তিনি বলেন, তোমাদের স্কুল পরিষ্কার রাখবে। যখনই কোনো ময়লা দেখবে, তা তুলে সঠিক ডাস্টবিনে ফেলবে।
শিক্ষার্থীদের তৈরি করা প্রদর্শনীগুলো দেখে প্রধানমন্ত্রী তাদের কাজের প্রশংসা করেন। তিনি প্রত্যেক শিশুকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে ও তার যত্ন নিতে আহ্বান জানান।
একটি স্টলে শিশুরা তাঁকে একটি ফুলের টবে চারাগাছ লাগিয়ে দিতে বলে, যাতে তাঁর এই সফরের একটি স্থায়ী স্মৃতি হিসেবে পরে সেটি তাদের স্কুলে রোপণ করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাওয়ার পর, শিশুরা দ্রুত একটি ফুলের টব ও চারাগাছ এনে দিলে তিনি নিজেই সেটি রোপণ করেন।
এ সময় ছাত্রছাত্রীরা তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধ করলে তিনি হাসিমুখে স্টলের ভেতরে ঢুকে শিশুদের সঙ্গে পোজ দেন।
এর আগে সারাদেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুরু হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশজুড়ে আজ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একযোগে প্রায় ২ লাখ চারা রোপণ হচ্ছে।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস-সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন