প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুরে সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান হত্যা মামলায় আদালত এক আসামিকে মৃত্যুদন্ড এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান খান এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি রুবেল এবং যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত এলিন ও শুভ কুমার পলাতক রয়েছেন। মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে আদালত খালাস দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত সাংবাদিক উৎস রহমানের পরিবার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান রংপুরের একটি স্থানীয় দৈনিক যুগের আলো কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের মা নুরজাহান বেগম নুরী রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে আদালত ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। দীর্ঘ ১০ বছর ৯ মাসের বিচারকার্য শেষে বুধবার আদালত রায় ঘোষণা করেন। মামলার বাদী নুরজাহান বেগম জানান, "এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।" তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলাল ও বাদীপক্ষের আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ জানান, মামলার মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সাংবাদিক উৎস রহমানকে হত্যা করিয়েছে।
তবে আদালত হত্যাকান্ডের মাস্টার মাইন্ডকেই খালাস দিয়েছে। এ রায়ে আইনজীবীসহ নিহতের পরিবার সংক্ষুব্ধ। তারা জানান, এ মামলার বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। হত্যার পর মূলহোতা পার পেয়ে গেলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন