প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্প্রতি অনুষ্ঠিত যৌথ সামরিক মহড়া পারমাণবিক যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। পিয়ংইয়ংয়ের বক্তব্য, এই মহড়া তাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক শক্তি দ্রুত বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সোমবার, দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির উপবিভাগীয় পরিচালক কিম জং সিক মন্তব্য করেছেন, ‘আয়রন মেস’ নামক এই মহড়া প্রমাণ করে যে, পারমাণবিক অস্ত্রের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে দমিয়ে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। তিনি এও বলেছেন যে, এ ধরনের হুমকি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কিম আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যান্য যৌথ সামরিক কার্যক্রমের কারণে ‘আয়রন মেস’ মহড়ার প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ‘আয়রন মেস’ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এই মহড়ার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত সামরিক বাহিনীর সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং উৎপাদনের দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা কিমের কাছ থেকে পারমাণবিক নীতি নিয়ে এমন মন্তব্য আসা অস্বাভাবিক। সাধারণত, এ ধরনের বিবৃতি দেশটির প্রতিরক্ষা বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়।
উত্তর কোরিয়াবিষয়ক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ইয়াং মু-জিন বলেছেন, কিমের দায়িত্ব শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ও উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণের দায়িত্বও তাঁর ওপর আসতে পারে।
এদিকে, গত সেপ্টেম্বরে সীমান্তে একটি মাইন বিস্ফোরণের পর দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপর, উত্তর কোরিয়া হুমকি দিয়েছে যে, অক্টোবরের শেষ নাগাদ দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে প্রচারমূলক সম্প্রচার আবার শুরু করতে পারে।
তবে, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সোমবার জানিয়েছে যে, উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত সেই হুমকি বাস্তবায়ন করেছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন