প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নরসিংদীর রায়পুরায় এক শিক্ষার্থীকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সহপাঠী ও শিক্ষকদের সামনে নাহিদুল ইসলাম টুটুল (১৬) নামের ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে তাকে মুক্তি দেওয়ার সময় শর্ত হিসেবে বলা হয়, সে আর বিদ্যালয়ে যাবে না।
এই ঘটনা রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের সদাগরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটে। ভুক্তভোগী টুটুল সদাগরকান্দি এলাকার কুয়েতপ্রবাসী সালেহ উদ্দিনের ছেলে এবং সদাগরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন একই এলাকার ইমান মিয়া ও রিফাত মিয়া।
স্থানীয় সূত্র ও টুটুলের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সদাগরকান্দি এলাকায় সরকার বাড়ি ও ফরিদ উদ্দিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।
এ ঘটনায় গুলিতে সরকার বাড়ির মোমেন সরকার নিহত হন। এরপর থেকে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। রবিবার দুপুরে সরকার বাড়ির সালেহ উদ্দিনের ছেলে টুটুলকে বিদ্যালয়ের দোতলার শ্রেণিকক্ষ থেকে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সামনে ধরে নিয়ে যান ফরিদ উদ্দিন গ্রুপের ইমান মিয়া ও রিফাত মিয়া। টুটুলের দাবি, এ সময় তার মাথায় পিস্তল ঠেকানো হয় এবং মারধর করতে করতে তাকে নিচে নামিয়ে আনা হয়।
টুটুল বলেন, ‘আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারতে মারতে দোতলা থেকে নিচে নামিয়ে আনে ইমান ও রিফাত। পরে বিদ্যালয় থেকে একটু দূরে নিয়ে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে আহত করে। আবার স্কুলে গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।’
টুটুলের ভাষ্য অনুযায়ী, খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হালিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। ওই শিক্ষক অভিযুক্তদের বলেন, ‘টুটুল আমার ছাত্র। টুটুলকে মারার আগে আমাকে মারতে হবে।’ পরে টুটুলকে আর বিদ্যালয়ে যেতে হবে না—এমন শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
টুটুলের মা বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে ছেলেকে বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছি। সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
সদাগরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। পরে বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক গিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে ছাড়িয়ে আনেন।’
তবে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান দাবি করেছেন, মাথায় অস্ত্র ঠেকানোর অভিযোগ সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘অস্ত্র ঠেকানোর বিষয়টি সত্য নয়। ওই শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে চড়থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। পরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন