প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ ধামরাই এবং মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার সংযোগস্থলে ধলেশ্বরী শাখা নদীর উপরে স্থায়ী সেতুর অভাবে লক্ষাধিক বাসিন্দা চরম যোগাযোগ সংকটে পড়েছেন। প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষজন যুগের পর যুগ ধরে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জনপদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। কোমলমতি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে মুমূর্ষু রোগীর জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি— সবকিছু এখন থমকে আছে এই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারে।
এই অঞ্চলে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, একপারে ঢাকা জেলার ধামরাই এবং সাভার উপজেলার মূল ভূখণ্ড বিস্তৃত হয়েছে। অপরদিকে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা রয়েছে। কিন্তু মাঝখানে ধলেশ্বরী শাখা নদী দুটি পারকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে প্রায় ৩০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষকে। প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে এই জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোর মাধ্যমে পারাপার হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হালকা যানবাহনও এই নড়বড়ে অবকাঠামোর ওপর দিয়ে চলাচল করছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
নদীবেষ্টিত এলাকায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে গড়ে উঠেছে ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫টি কিন্ডারগার্টেন এবং ৩টি মাদ্রাসা। কিন্তু এখানে যাতায়াত ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে ফোর্ডনগর উত্তর পাড়াসহ সংলগ্ন এলাকার শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের প্রতিদিন চরম উৎকণ্ঠা মুখোমুখি হতে হয় নদী পারাপারে। এছাড়া, সাভারের বিভিন্ন উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত চার শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য এ ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোই একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম।
যোগাযোগের এই বিপর্যয় মানুষের জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে সবচেয়ে বড় আঘাত হেনেছে। নদীর ওপারের ১৩টি গ্রামে কোনো হাসপাতাল বা মানসম্মত চিকিৎসা কেন্দ্র না থাকায়, জরুরি সেবার জন্য সাভারের হাসপাতালগুলোই বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু নৌপথ অথবা সাঁকোর সীমাবদ্ধতার কারণে মুমূর্ষু রোগী বা প্রসূতি মায়েদের সময়মতো হাসপাতালে স্থানান্তর অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ হোসেন জানান, কাগজে-কলমে প্রক্রিয়াকরণের আশ্বাস পেয়েছেন বেশ কয়েকবার। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কবে শেষ হবে এই অন্তহীন অপেক্ষা? রাজধানী ঢাকার এত কাছে থেকেও এই মধ্যযুগীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণই এখন তাদের প্রধান দাবি।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন জানিয়েছেন, জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবং স্থায়ী সেতুর দাবির বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, খুব শীঘ্রই এই সেতু নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন