প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মামুনের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বাদী হয়ে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রজাপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান ও বড় ভাই মামুন ভেকু (খননযন্ত্র), ভ্যান ও কোদাল নিয়ে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রজাপাড়া মৌজার ৫৯ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন। সেখানে তারা জমির মাটি কেটে আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা চালান।
খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম পাঁচজন সহকারী শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজে বাধা দেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, এ সময় নুরুজ্জামান কাফি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা বিদ্যালয়ের প্রায় ১১০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত (প্রায় ছয় শতাংশ) জমির অন্তত এক লাখ টাকা মূল্যের মাটি কেটে ট্রলিযোগে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান। পরে সেখানে খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণ করা হয়, যার ফলে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ জুলাই বিদ্যালয়ের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে নুরুজ্জামান কাফি সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন। তবে সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তার বিরুদ্ধে সরাসরি চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগে মামলা হলো।
তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি। তিনি বলেন,
জমিটির মূল ওয়ারিশরা দীর্ঘদিন মামলা চালিয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেয়েছেন। তাদের কাছ থেকে আমি বায়নামূলে জমিটি কিনেছি। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে নিয়ম অনুযায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের সঙ্গে আমার কোনোদিন সামনাসামনি দেখাই হয়নি, কথাবার্তাও হয়নি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফেরদৌস মিয়া জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন এবং কলাপাড়া থানার ওসিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন