প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সময়ের সুযোগ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে গলায় রামদা ধরে বাড়িসহ অন্যান্য সম্পত্তির দলিলে সই করিয়ে নেওয়ার। তার তিন সৎ ভাইসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২২ সালের ঘটনা নিয়ে গত সোমবার সংসদ সদস্যের স্ত্রী পারভিন আক্তার দিরাই আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলা ও আদালতের আদেশের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহিত লাল চন্দ।
মামলায় অভিযুক্তরা হচ্ছেন, নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। এছাড়া দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের মৃত নাজমুল ইসলামের ছেলে আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে ছয়ফুল চৌধুরী, তল বাউসী গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ার কাপন গ্রামের নাজমুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলাম এবং দিরাইয়ের নুরুল ইসলামের মেয়ে মোহরার মমতাজ বেগম।
মামলায় পারভীন আকতার অভিযোগ করেছেন, নাছির চৌধুরীর (৭৫) গলায় রামদা ধরে হুমকি দিয়ে তার তিন সৎ ভাই বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের দলিলে সই করিয়ে নিয়েছেন। নাছির তখন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন এবং মানসিকভাবে অবুঝ ছিলেন। তার মৃত্যুর পর সৎ ভাইয়েরা এই সম্পত্তি নিজেদের নামে দলিল করার পরিকল্পনা করেছিলেন যেন তিনি এবং পৈতৃক সম্পত্তির দুই স্ত্রী ও দুই সন্তান বঞ্চিত হন। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা থেকে আসা সময় অসুস্থ নাছির চৌধুরীকে দেখা করতে গিয়ে পারভীন মারপিট ও শ্লীলতাহানির শিকার হন। তার পর তিনি অসুস্থ নাছিরকে তার প্রথম স্ত্রী নিঃসন্তান শেলী চৌধুরী ও বোন শামীমা চৌধুরীর কাছে রেখে আসেন, তখন তারা দুজনও অসুস্থ ছিলেন। এরপর আসামিরা ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দুই কর্মচারীকে নিয়ে এসে নাছির চৌধুরীকে দলিলে সই করতে চাপ দেন। তিনি এতে অসম্মতি জানান। পরে গলায় রামদা ধরে সই না করলে হত্যার ভয় দেখান। স্ত্রী শেলী চৌধুরী বাধা দিতে গেলে তারাও তাকেও হত্যার হুমকি দেন। পরে বাধ্য হয়ে তিনি সই করেন।
পারভীন আকতার দাবি করেন যে, পরবর্তীতে তিনি পুলিশের সহায়তায় নাছির চৌধুরীকে উদ্ধার করে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। সেখানে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তিনি জোর করে দলিলে সই নেওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে আসামিরা ক্ষমা চান এবং দ্রুত দলিল বাতিলের আশ্বাস দেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোনো উদ্যোগ নেননি। ঘটনার পরে শেলী চৌধুরী ও শামীমা চৌধুরী দুজনই মারা গেছেন।
এ প্রসঙ্গে মামলার অন্যতম আসামি মঈন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘‘দলিল রেজিস্ট্রি করেন সাবরেজিস্ট্রার। আমার বোন এবং নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ‘প্রকৃত’ স্ত্রী বিষয়টি জানতেন। মামলা কী হয়েছে তা জানি না। জানার পর আইনিভাবেই জবাব দেব।’’.
নাছির চৌধুরী সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন