প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এক নারী চিকিৎসককে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলমকে (রায়হান) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাকে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে जवाब দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখার সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডা. রেজওয়ানুর আলম বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন। গত জুন মাসে একজন নারী চিকিৎসক একই হাসপাতালে যোগদান করেন। এরপর থেকেই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সুযোগ পেলেই তাকে কারণ ছাড়াই অফিস রুমে ডাকতেন এবং অশালীন ইঙ্গিত ও অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা প্রস্তাব বা রুজু করা হয়, তবে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযোগের মাত্রা ও প্রকৃতি বিবেচনায় অভিযুক্ত কর্মচারীকে তার দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারে। তদন্তের কাজে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা দেখে অভিযুক্ত ডা. রেজওয়ানুর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাব ও অসদাচরণের অভিযোগ এনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী চিকিৎসক। এরপর শনিবার (১৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে এক আবেদনে নারী চিকিৎসকের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান খোদ ডা. রেজওয়ানুর আলম। আবেদনে তিনি বলেন, পূর্বশত্রুতার কারণে এবং নিয়মিত হাসপাতালে না আসার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার ক্ষোভে ওই নারী চিকিৎসক তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন।
এরপর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ডা. রেজওয়ানুর আলমের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দেয়া অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়ার আবেদন জানান ওই নারী চিকিৎসক। পরে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে এবং বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। কিন্তু এর ঠিক একদিন পর, বুধবার (২২ জুলাই) পূর্বের ১৪ জুলাইয়ের অভিযোগটি আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফের আবেদন করেন তিনি।
এই বিষয়ে ওই নারী চিকিৎসক বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে। এটি সমাজের জন্য একটি ম্যাসেজ, আমরা যাতে আরও সচেতনভাবে আচরণ করি। যে কোনো কর্মকর্তা উর্ধ্বতন আর নিম্নতম হোক, সকলেরই সচেতন হওয়া উচিত। কারও কাছে কোনো ক্ষতি মানুষ হিসেবে ভালো লাগে না। বিভাগীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী চলবে, এটি কারো হাতে নেই। আর এখানে আমার আলাদা বক্তব্য নেই। তবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের সুরক্ষায় অত্যন্ত তৎপর।’
অন্যদিকে, নারী চিকিৎসকের অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. রেজওয়ানুর আলম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। যোগদানের পর সঠিক সময়ে ডিউটি পালন ও নিয়মিত হাসপাতালে না আসায় তাকে শোকজ করেছিলাম। আমি ১৩ তারিখে শোকজ করেছি আর সে অভিযোগ দিয়েছে ১৪ তারিখ।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন