প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্স উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। যেখানে অন্যান্য দলগুলো ৪০০ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনও ৩৫০ রানের মাইলফলক অতিক্রম করতে পারেনি। শুধু ৩৫০ রানই নয়, গত এক বছরে ২০০ রানের বেশি রান তাড়া করতেও দলটি বারবার ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই ব্যাটারদের ব্যর্থতা নিয়ে চিন্তিত। বিসিবি নিয়মিতভাবে বড় রান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে এবং তা তাড়া করার জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এই লক্ষ্যে নতুন অনুশীলন পদ্ধতি চালুর কথা ভাবছে বোর্ড।
গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের বর্তমান সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভা শেষে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, বোর্ড খেলোয়াড়দের ব্যর্থতার জন্য একমাত্র তাদের দায়ী করতে চায় না। বরং নিজেদের ভুলগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে তারা।
তামিম এক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “যে কোনো ব্যর্থতার জন্য শুধু খেলোয়াড়দের দিকে আঙুল তোলার আগে আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলে বুঝতে চেয়েছি, আমাদের কোনো ভুলের জন্য তারা খারাপ খেলছে কি না, তাদের ওয়ানডের জন্য প্রস্তুত করায় প্রক্রিয়াগত কোনো ভুল আছে কি না।”
বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে বড় সংগ্রহ গড়ার সমস্যা নতুন নয়। একইভাবে, বড় লক্ষ্য তাড়া করেও দলটি নিয়মিতভাবে জয়ী হতে পারছে না। বিসিবি মনে করছে, এর পেছনে ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে।
তামিম ইকবাল বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, “ধরুন, আমরা চাই আমাদের জাতীয় দল ওয়ানডেতে ৩০০-৩৫০ করুক, ৩০০-৩৫০ রান তাড়া করুক। কিন্তু ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে কি তারা সেটা করছে? খুব বেশি হলে প্রতি মৌসুমে এ রকম দুই-তিনটা ম্যাচই হয়, যেখানে এত রান তাড়া করতে হয়। এখন ঘরোয়া ক্রিকেটেই যদি তাদের এই চর্চাটা না থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গিয়ে কীভাবে করবে!”
তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফলতা অর্জনের জন্য ঘরোয়া পর্যায় থেকেই বড় রান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় দলের অনুশীলনে এই ঘাটতি পূরণ করা কঠিন। তাই ক্রিকেটের সব পর্যায়ে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে বোর্ড।
বড় রান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে তামিম একটি বিশেষ অনুশীলন পদ্ধতির প্রস্তাব দিয়েছেন। এই পদ্ধতিতে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে। ব্যাটসম্যানদের সামনে থাকবে বড় লক্ষ্য, অন্যদিকে বোলারদের কাজ হবে সেই লক্ষ্য পূরণে বাধা দেওয়া।
পরিকল্পনা সম্পর্কে তামিম বলেন, “আমরা যেমন আলোচনা করেছি, এমন একটা প্র্যাকটিস সেশনের ব্যবস্থা রাখার, যেখানে ৬-৭ জন করে বোলার ও ৬-৭ জন করে ব্যাটসম্যান থাকবে। ব্যাটসম্যানদের ৩২০-৩৫০ রানের লক্ষ্য দেওয়া হবে। তারা চেষ্টা করবে ৫০ ওভারের মধ্যে তা করার, বোলাররা চেষ্টা করবে তাদের সেটা করতে না দেওয়ার।”
এই অনুশীলনে ব্যাটসম্যানরা বড় লক্ষ্য তাড়া করার অভিজ্ঞতা লাভ করবে। বোলাররাও শিখবে কীভাবে বেশি রান আটকে রাখা যায়। এতে ম্যাচের চাপ সামলানোর অভ্যাস তৈরি হবে এবং দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার দক্ষতা বাড়তে পারে।
বিসিবি এই পদ্ধতিকে শুধু জাতীয় দলের জন্য সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। ভবিষ্যতে বিভিন্ন পর্যায়ের দলের অনুশীলনে এমন সেশন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। খেলোয়াড়দের ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত করানোই হবে এর মূল উদ্দেশ্য।
তবে এটি বোর্ডের একমাত্র পরিকল্পনা নয়। ওয়ানডে ক্রিকেটে সাফল্য অর্জনের জন্য আরও কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবছে বিসিবি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন