প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার সময়, মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান সব আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মো. জিয়ার উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অনাদায়ে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজনের মধ্যে রয়েছেন—মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাদের প্রত্যেককেও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া, শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাসপ্রাপ্ত চারজন হলেন—উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলা।
মামলার রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।
মামলার বিবরণে জানা যায়, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তার স্বামী ও সন্তান না থাকায়, মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তার স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিরোধের সমাধান হয়নি।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সালিশ বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে জসিম তার মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্যান্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এই নৃশংস হামলায় আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান। এ ঘটনার পর ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এই মামলায় মোট ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন