০২:১১ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন এক যুদ্ধে টেনে আনার উদ্দেশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমান ছিনতাইয়ের ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ নাটক তৈরি করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি তুলে ধরেছে।
প্রেস টিভি বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদনে জানায়, এক ‘সুপরিচিত আঞ্চলিক সূত্রের’ উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়, গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি মূলত এই সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবারের বিমান দুর্ঘটনার তিন দিন আগে আমিরাতে নেতানিয়াহুর একটি গোপন সফর অনুষ্ঠিত হয়। এই সফরের সময়েই সাজানো অভিযানের মূল রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: সুদানের দারফুরে ড্রোন হামলায় নিহত শতাধিক, আহত ১১৩
বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, প্রেস টিভির বরাতে নেতানিয়াহুর সাথে একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন এবং কয়েকটি আরব দেশের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এমন একটি সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়, যার দায় পরবর্তীতে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রেস টিভির সূত্রের দাবি, পুরো ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন একটি সামরিক সংঘাতে জড়াতে প্ররোচিত করা। এছাড়া, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে নিজের জোটের বিপর্যয়ের আশঙ্কায় নেতানিয়াহু এই পথ বেছে নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে প্রেস টিভি তাদের প্রতিবেদনে এই সূত্রের পরিচয় প্রকাশ করেনি এবং দাবির সমর্থনে কোনো জোরালো প্রমাণও উপস্থাপন করতে পারেনি।
এদিকে, প্রেস টিভির এই অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বুধবার ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের তাবুক শহরের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। ফ্লাইদুবাই পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে জানায়, উড্ডয়ন চলাকালে বিমানে ‘ককপিটের ভেতর হাতাহাতি ও সংঘাতের’ ঘটনা ঘটে। তবে ক্রু সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন: স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৮ জন নিহত, ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ককপিটে সংঘর্ষের ঘটনায় বিমানের ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার উভয়েই আহত হন এবং তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে যাত্রী ও বাকী ক্রুরা সুরক্ষিত ছিলেন।
এই ঘটনার আসল কারণ উদঘাটনে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে সৌদি আরবের ‘ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টার’। একই সাথে তদন্ত চলাকালীন ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলে তাদের সকল ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন