প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাকে অবৈধ আখ্যা দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে এটিকে বিশ্বের সব দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যা ইরানের জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
শনিবার (২২ আগস্ট) ইরানের ফারস নিউজে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ইরানের ওপরযুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা এতটুকু নয়, বরং এটি একটি দেশের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থনৈতিক যুদ্ধের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। তিনি এটিকে 'বিশ্বের সব সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বাঘাই বলেন, জাতিসংঘের সব স্বাধীন সদস্য রাষ্ট্রের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের 'বহির্দেশীয় সার্বভৌমত্ব' প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা এসেছে।
তিনি আরও বলেন, 'কোনো সরকারেরই অধিকার নেই বিদেশি ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা বিমানবন্দরকে—যেগুলো নিজ নিজ দেশের সার্বভৌম এখতিয়ারের অধীনে পরিচালিত—তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করার।'
বাঘাই বলেন, এ ধরনের 'সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার' আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি নেই। এগুলো জাতিসংঘ সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদের ১ নম্বর ধারার স্বীকৃত রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতার মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করে।
তিনি অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগকে 'আন্তর্জাতিক অপরাধ ও বেআইনি কর্মকাণ্ড' হিসেবে বর্ণনা করেন। নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে নৌ অবরোধ যুক্ত হলে তা 'অন্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে অন্য একটি শক্তির ওপর সাময়িক ও শর্তাধীন বিষয়ে পরিণত করে' বলেও সতর্ক করেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ ধরনের হুমকির কাছে নতি স্বীকার করলে 'জাতীয় সার্বভৌমত্বের সম্পূর্ণ ক্ষয়' ঘটবে এবং বিশ্ব 'নির্লজ্জ ও পূর্ণমাত্রার ঔপনিবেশিকতার এক বিপর্যয়কর প্রত্যাবর্তনের' মুখে পড়বে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, 'এই মুহূর্তে তিনি হরমুজ প্রণালিকে আমেরিকায় ভূখণ্ড হিসেবে দেখছেন।' তিনি আরও বলেছেন, ইরান 'একটি চুক্তি করতে চায়, তবে আমার মতে তারা সঠিক চুক্তিতে যেতে প্রস্তুত নয়।'
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা থামছে না। শুক্রবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি ইরান এখনও 'সঠিক চুক্তি' করতে প্রস্তুত নয় বলেও মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ অর্থনৈতিক অভিযানের হুমকিকে পুরোনো ও ব্যর্থ নীতির পুনরাবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তার মতে, আগের নিষেধাজ্ঞার মতো নতুন এই চাপের কৌশলও ব্যর্থ হবে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাঁচ মাস আগে 'নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের' দাবি করেও তা ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন। সবচেয়ে চূর্ণকারী অর্থনৈতিক অভিযানের হুমকিও ব্যর্থ হবে।
ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলার উদ্যোগে চীনকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ কোনো সমাধান নয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন