০৮:৫৫ পি.এম
ঈদযাত্রা ও ঈদের পর কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। এই অভিযানে, ১০ দিনের মধ্যে বিআরটিএর ৫৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ৭৫৮টি অভিযান পরিচালনা করেছে।
এইসব অভিযানের ফলে ৮১৩টি মামলা হয়েছে এবং ১৬ লাখ ৬১ হাজার ২৩০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। নিয়ম অমান্য করায় আরও ছয়টি গাড়ি ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই
বিআরটিএ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ মে থেকে ঈদযাত্রার শুরুতেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের কার্যক্রম শুরু হয়, যা ৩১ মে পর্যন্ত একটানা চলেছে। এছাড়া, ঈদ-পরবর্তী সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে ঢাকার সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ভিজিলেন্স টিমের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।
যানবাহন ছাড়ানোর আগে চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, বেপরোয়া ওভারটেকিং পরিহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দূরপাল্লার যাত্রীদের সড়ক নিরাপত্তার বিভিন্ন তথ্যও অবহিত করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিআরটিএ’র অভিযানের জোরদার হওয়ায় চালকদের একটি বড় অংশের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে। তবে সড়ক নিরাপদ রাখতে এই কর্মসূচি শুধুমাত্র ঈদ মৌসুমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বছরই চালানো প্রয়োজন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান কালের কণ্ঠকে জানান, শুধু ঈদ মৌসুমে নয়, বরং সারা বছর তদারকি ও সমন্বিত কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ একজন গাড়িচালক হুট করে তার আচরণ পরিবর্তন করবে—এমনটা আশা করা ঠিক নয়। অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে চর্চা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে
বিআরটিএ ঢাকা বিভাগের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞা কালের কণ্ঠকে জানান, ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে ২০ মে থেকে বিআরটিএ’র সদর কার্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে, যা ৬ জুন পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত গতির পাশাপাশি বিপজ্জনক ওভারটেকিং নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি সার্কেল অফিস থেকে বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিআরটিএ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা যৌথভাবে টার্মিনালগুলোতে সচেতনতামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। একই সময়ে সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেলের গতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযানও চলছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের বৈঠক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন