প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পূর্ব লিবিয়ায় লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার ফওজি মানসুরি নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় বেনগাজির হাওয়ারি এলাকায় নিজের বাড়ির বাই তাঁর গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটলে তিনি নিহত হন।
নিরাপত্তা বাহিনীর দুটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো বলেছে, গাড়িতে একটি বিস্ফোরক ডিভাইস রাখা হয়েছিল। সেটি বিস্ফোরিত হওয়ার পর মানসুরি নিহত হন। তবে হামলাটি কারা চালিয়েছে, সে বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলো কোনো তথ্য দেয়নি।
বিস্ফোরক ডিভাইসটি কী ধরনের ছিল, তা নিয়েও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। মানসুরিকে হত্যার এই ঘটনা লিবিয়ার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সংকটকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। ২০২০ সালে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর দেশটিতে বড় ধরনের যুদ্ধ বন্ধ রয়েছে। তবে রাজনৈতিকভাবে দেশটি এখনো বিভক্ত। বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসন ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব রয়েছে।
লিবিয়ার বর্তমান সংকটের শিকড় রয়েছে ২০১১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে। ওই বছর ন্যাটোর সমর্থনে হওয়া এক বিদ্রোহের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হন। পরে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাত বাড়তে থাকে। ২০১৪ সালে লিবিয়া কার্যত পূর্ব ও পশ্চিমের প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠীর মধ্যে ভাগ হয়ে যায়।
এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই চলতে থাকে।
সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি বর্তমানে পূর্ব ও দক্ষিণ লিবিয়ার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। বাহিনীটি বেনগাজিভিত্তিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জোটবদ্ধ। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাতীয় ঐক্য সরকার রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক। এই সরকার পশ্চিম লিবিয়ার বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
২০২০ সালের যুদ্ধবিরতের পর বড় ধরনের সংঘাত কমলেও রাজনৈতিক বিভাজন এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই এলএনএর সামরিক গোয়েন্দা প্রধানকে লক্ষ্য করে এই বিস্ফোরণ ঘটল। ফলে ঘটনাটি দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন