প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে ও পরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াত ও লামাযহাবী গোষ্ঠী তুলনামূলকভাবে বেশি লাভবান হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মুফতী মোযযাম্মিল হক মাছুমী।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কওমি অঙ্গনে বিভাজন ও ভাঙনের পাশাপাশি জামায়াত ও লামাযহাবী মতাদর্শে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে কওমি অঙ্গন সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুফতী মোযযাম্মিল হক মাছুমী বলেন, “অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে এবার বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে-পরে সবচেয়ে বেশি গেইনার জামায়াত আর লামাযহাবীরা। আর কওমি অঙ্গনে ভাঙনসহ যে হারে জামায়াত ও লামাযহাবীতে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মধ্যে আছে কওমিরা। বেঁচে গেলো চরমোনাই ও সুন্নীরা।”
তবে নিজের এই বাস্তব ধারণা ভুল প্রমাণিত হোক—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
মামুনুল হককে জামায়াত জোটে নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মাওলানা মামুনুল হক সাহেবের মতো একটা ফিগারকে জামায়াত জোটে নেওয়া চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। সাথে ওসামার মতো বাকপটুকে নিয়ে জামায়াতের যে সুচিন্তিত মিশন বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা এখন কওমি অঙ্গন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।”
এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধর্মীয় অঙ্গনের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠতা এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পদ-পদবি দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরেও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে দেশের সুন্নী দরবার, পীর-মাশায়েখ ও খানকাগুলোর মধ্যে আগের তুলনায় ঐক্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন মুফতী মোযযাম্মিল হক মাছুমী। তাঁর ভাষ্য, আমলের ক্ষেত্রে কিছু অসঙ্গতি ও মাসলাকগত মতপার্থক্য থাকলেও দেশের অধিকাংশ সুন্নী দরবার ও পীর-মাশায়েখ প্রচলিত রাজনীতিকে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন।
তিনি বলেন, উগ্রবাদ ও দ্বিচারিতার মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশ্নে সুন্নী অঙ্গনের মানুষ নিজেদের শান্তিপ্রিয় হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।
সর্বশেষে তিনি বলেন, আল্লাহর দ্বীনের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সকল দল-মতের ইসলামপন্থীরা ঐক্যবদ্ধ হলে দেশের মুসলমান, আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের রাষ্ট্র পরিচালনায় আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো।
মুফতী মোযযাম্মিল হক মাছুমীর এসব বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন