প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতি ঘণ্টায় নগরীতে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, তারা চাহিদার অর্ধেকও বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে না। সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডটি অন্ধকারে নিমজ্জিত।
এনিয়ে বরিশাল জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, আগামী ২ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়া খুবই বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে বাণিজ্য মেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বহাল আছে। বিদ্যুৎ বিভাগ কি বলবেন? এ ধরণের ক্ষোভ এখন নগরীর ঘরে ঘরে।
বুধবার সকাল থেকে অন্তত আটবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার খেলায় ছিল। এসব কারণে অফিসপাড়ায়ও কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটেও বিদ্যুৎ নেই। বৃহস্পতিবার আরিফুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী জানান, বুধবার তিনি শেবাচিম হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেন অন্ধকার। মুমূর্ষ রোগীদের এই ইউনিটে বিকল্প বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাতপাখা, মোমবাতি, মোবাইলের আলোই একমাত্র ভরসা। আরিফুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালটিতে গত ১০ বছরে কয়েকশ' কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও আইসিইউতে একটি জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীরকে ফোন দেওয়া হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, তাঁর আওতায় নগরীর একাংশ ও ঝালকাঠি মিলে বিদ্যুতের চাহিদা ৯০ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাচ্ছেন ৫০ মেগাওয়াট। তিনি বলেন, নগরীর একাংশে চাহিদা রয়েছে ৬৫ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দিতে পারছেন না।
বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত মালাকার জানান, তাঁর আওতায় নগরীর উত্তর অংশের চাহিদা ৪২ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পেয়েছেন মাত্র ২২ মেগাওয়াট। হঠাৎ কোনো পাওয়ার প্ল্যান্ট হয়তো বন্ধ রয়েছে। এর কারণেই এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পাওয়ার গ্রিডের বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান পলাশ বলেন, জেনারেশন শর্টের কারণে বরিশালে ২০ থেকে ২৫ ভাগ লোডশেডিং হচ্ছে। আশা করছেন দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে তোলা যাবে।
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সহসভাপতি আব্দুর রশিদ নিলু বলেন, এতোটা ভয়াবহ লোডশেডিং হওয়া কাম্য নয়। রাজধানী ঠিক না রেখে সমবণ্টন হওয়া উচিত। তিনি আরো বলেন, শেবাচিম হাসপাতালের আইসিইউতে লোডশেডিং অগ্রহণযোগ্য। সেখানে অন্তত একটি জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকা দরকার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন